ধর্ষণের আতঙ্কে থানার বাইরে আশ্রয় মহিলার

Update: November 18, 2012 22:10 IST

ধর্ষণের চেষ্টা, খুনের হুমকি। এতসবের পরেও নির্বিকার পুলিস। পুলিসের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ বারুইপুরের এক নির্যাতিতা মহিলার। পুলিসের কাছে সাহায্য না পেয়ে নিরাপত্তার দাবিতে বারুইপুর থানা চত্বরেই অবস্থানে বসেছেন আক্রান্ত মহিলা। গত চোদ্দোই নভেম্বর বারুইপুর থানার সোলগোয়ালিয়া এলাকায় একা বাড়িতে ছিলেন এক মহিলা। অভিযোগ সেই সুযোগে রাত দুটোর সময় ওই মহিলার ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে প্রতিবেশি যুবক মুজিবর মোল্লা। বাধা দিলে শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি। অভিযোগ তখন মুজিবর মোল্লা ওই মহিলাকে খুনের চেষ্টা করে। কিন্তু মহিলার চিত্‍কারে এরপরই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। পরের দিন ১৫ তারিখ নির্যাতিতা মহিলা অভিযোগ জানাতে যান বারুইপুর মহিলা থানায়। কিন্তু সেখানে অভিযোগ না নিলে তিনি বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার এতদিন পরেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিস। ইতিমধ্যেই ওই যুবক আক্রান্ত মহিলাকে বারবার খুনের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার অভাবে আজ বারুইপুর থানার সামনে আশ্রয় নিয়েছেন ওই মহিলা।
প্রসঙ্গত, বারুইপুর থানার সোলগোয়ালিয়াতে গত ১৪ নভেম্বর রাত দুটোয় বাড়িতে এক মহিলা একা ছিলেন। স্বামী ক্যানিং-এ। সেই সুযোগে প্রতিবেশি এক যুবক মুজিবর মোল্লা ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। জোর করে ধর্ষণ করতে যায়। তখন মহিলা বাধা দেন ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। তখন খুন করার চেষ্টা করে। যুবকটিকে চিনতে পারে। চিত্‍কারে যুবক পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে ওই গৃহবধু বারুইপুর মহিলা থানায় অভিযোগ জানাতে আসে। কিন্তু অভিযোগ না নিয়েই বারুইপুর থানায় ফিরিয়ে দেয়। পরে তার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা হয়। বাড়ি ফিরে যায়। আজ পর্যন্ত পুলিস কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। সেই অভিযুক্ত যুবক ক্রমাগত ভয় দেখাচ্ছে খুনের । আতঙ্কে থানার বাইরে আশ্রয় নিয়েছে মহিলা।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।