বিজেপির পর এবার কংগ্রেসের মঞ্চে শিলাদিত্য

Last Updated: Saturday, December 8, 2012 - 21:03

মাওবাদী তকমা লাগা শিলাদিত্য চৌধুরীকে দেখা গেল লালগড়ে কংগ্রেসের মঞ্চে। আর এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ৪ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জনসভার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। লালগড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা। সারের দাম কেন বাড়ছে তা নিয়ে নালিশ জানাতে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন এক লালগড়বাসী। এহেন কর্মের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। জুটেছিল মাওবাদী তকমা। শনিবার তাঁকেই দেখা গেল কংগ্রেসের মঞ্চে। কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আরেক মন্ত্রী দীপা দাশমুন্সি। হাতে হাত মিলিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানালেন জয়রাম রমেশ। রীতিমতো বুকে জড়িয়ে ধরলেন আরেক কংগ্রেস নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা।
ব্যক্তির নাম শিলাদিত্য চৌধুরী। গোটা ঘটনাটা কিন্তু অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। লুকিয়ে রয়েছে এক রাজনৈতিক বার্তা। যে ব্যক্তিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন মাওবাদী, তাঁকে কাছে টেনে নিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা কিন্তু বুঝিয়ে দিলেন তাঁরা এই মুহূর্তে কতটা তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী। কংগ্রেসের লালগড়ে সমাবেশ ডাকার কারণ কী?  রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে রাজ্যের সবচাইতে স্পর্শকাতর এই অঞ্চলকেই বেছে নিয়েছিল কংগ্রেস। আর কংগ্রেসের এই সমাবেশ যে তৃণমূলের একেবারেই না পসন্দ ছিল, সেই ছবিটাও কিন্তু ছিল স্পষ্ট। কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, তাঁদের সব পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেওয়া হয়েছে হুমকি।
এমনকি সভার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন লালগড় আসেন, তার সাতদিন আগে থেকে নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয় গোটা অঞ্চল। এমনকি পুলিস কনভয়ে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর ডামিও। অভিযোগ, চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আসলেও গোটা জঙ্গলমহলের রাস্তায় ছিল না কোনও বাড়তি নজরদারি। শুধুমাত্র কিছু আধাসামরিক বাহিনী রাখা হয়েছিল মঞ্চের আশেপাশে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ যাই থাকুক না কেন, লালগড়ে ফের কিন্তু বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।



First Published: Saturday, December 8, 2012 - 21:03


comments powered by Disqus