আনুগত্যের ইমাম পেলেন শুভাপ্রসন্ন!

Last Updated: Thursday, January 17, 2013 - 21:52

কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে শিল্প করার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রীর পাশে দেখা গিয়েছে এই শিল্পীকে। মানে তিনি কৃষিজমিতে কৃষিরই পক্ষে। কিন্তু সেই শুভাপ্রসন্নই, একি কাণ্ড করলেন ভাঙড়ের হাতিশালায়। সেখানে শুভাপ্রসন্নর ছ বিঘা আঠারো কাঠা জমি আছে। জমিটা অবশ্য কেনা হয়েছে একটি ট্রাস্টের নামে। ওই জমির চরিত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
 
ভাঙড় দু নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অর্ন্তগত বেওতা দু নম্বর পঞ্চায়েতের হাতিশালা মৌজার ১, ২৪ এবং ৮৪ নম্বর দাগে ছড়িয়ে আছে শুভাপ্রসন্নবাবুর এই ছয় বিঘা ১৮ কাঠা জমি। এর মধ্যে ২৪ নম্বর দাগে রয়েছে দেড় বিঘা জমি। ৮৪ নং দাগে রয়েছে সতেরো কাঠা জমি। বাকি সাড়ে চার বিঘা জমি রয়েছে এক নং দাগে। আর এই বিশাল জমিটার পুরোটাই কৃষি জমি। কিন্তু কীভাবে কেনা হয়েছে এই জমি?
 
এখানেই শেষ নয়। এক নং দাগের জমির মধ্যে দিয়ে গেছে ১৪ থেকে ১৫টি মৌজার সেচ খাল। ওই খাল দিয়ে এক শতাব্দি ধরে হাতিশালা, বেওতা, কাঁঠালবেড়িয়া, বনমালিপুর, আনন্দকেশরি, কুলবেড়িয়া, ধর্মতলা, পাঁচুরিয়ার মতো মৌজায় সেচের জল পৌঁছয়। সেচ খালের প্রস্থ ৪০ ফুট থেকে কমে মাত্র ১৫ ফুটে এসে দাড়িয়েছে। সৌজন্যে শিল্পী শুভাপ্রসন্ন।
 
 
স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, কৃষিজমিকে খাস জমি করে নিয়েছেন শুভাপ্রসন্ন। জলাশয়কে বুজিয়ে ফেলেছেন মর্জিমাফিক। সবটাই চলবছে, হুমকি দিয়ে। আর এই কাজে শুভাপ্রসন্নর সঙ্গে রয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক। সেই বিধায়ক, যিনি কৃষিজমিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার আন্দোলনে নেমেছেন। যিনি আবার কয়েকশো বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে দিয়েছেন প্রোমোটারদের কাছে। অন্তত তেমনই অভিযোগ, এলাকার মানুষের।
 
বারাসত-রায়চক প্রস্তাবিত সড়কের পাশেই এক সময় ধানের চারা পুঁতে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুঁতেছিলেন জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে। তার কাছেই শুভাপ্রসন্নর জমি। কৃষিজমিতে শিল্প গড়ে কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরব শুভাপ্রসন্নই, কৃষিজমি কিনেছেন, অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য। এই দ্বিচারিতা কী শোভা পায়।



First Published: Thursday, January 17, 2013 - 21:52


comments powered by Disqus