সাধারণ ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব জেলাগুলিতেও

Last Updated: Tuesday, February 28, 2012 - 22:48

মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে ব্যাপক প্রভাব পড়ল রাজ্যের জেলাগুলিতে।  অধিকাংশ জায়গাতেই দোকানপাট বাজারহাট বন্ধ ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর এসেছে। ধর্মঘটীদের উপর পুলিসের লাঠিচালানোর ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েক জায়গায়। হামলাকারীদের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায়। আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সিপিআইএম নেতা ও কর্মী। কয়েক জাগায় সিপিআইএমের বিরুদ্ধেও পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের বিরোধিতার সবরকম প্রচেষ্ঠা সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে সাধারণ ধর্মঘটের প্রভাব ভালই ছিল।
মালদহের ইংরেজবাজারে মুখ্য ডাকঘরের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকেরা ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার করার সময় জোর করে ডাকঘরের তালা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে কংগ্রেস ও তৃণমূলের কর্মীরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিগৃহীত হন প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রীকুমার মুখার্জি।
বারাকপুর ১ নম্বর জোনাল কমিটির সম্পাদক হরিমোহন নাথকে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জগদ্দল থানার সুন্ডিয়াপাড়ায় আক্রান্ত হন ৪ সিপিআইএম ও ডিওয়াইএফআই কর্মী। 
 
রায়গঞ্জের সরকারি বাস স্ট্যান্ডে বাসের সামনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রেফতার করা হয় সিপিআইএমের জেলা কমিটটির এক সদস্য সহ মোট ২০ জন ধর্মঘট সমর্থককে। রায়গঞ্জের রেলগেটে সামনে সিপিআইএম ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই দলেরই ২ কর্মী সমর্থক। রায়গঞ্জেই সিপিআইএমের লোকাল কমিটির অফিসের সামনে আক্রান্ত হন বামফ্রন্টের শিক্ষক নেতা গৌতম সিনহা।
বীরভূমের রামপুরহাটে সিটু সমর্থকেরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করলে পুলিস এসে তাদের সরিয়ে দেয়। সিটুর অভিযোগ, পুলিস তাদের দলীয় পতাকা খুলে ফেলে।

পুরুলিয়ার আদ্রা স্টেশনে সিপিআইএম ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়ার বিলতোলা গ্রামে সিপিআইএম তৃণমূল সংঘর্ষের খবর এসেছে। 
বারাসতের চাঁপাডালি ও কলোনি মোড়েও সিপিআইএম ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের তির সিপিআইএমের দিকে।
জলপাইগুড়ির পিডব্লিউডি মোড়ে ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল করতে গিয়ে গ্রেফতার হন সিপিআইএমের প্রাক্তন জেলাসম্পাদক মানিক সান্যাল সহ ৩ জন।
ব্যারাকপুরের এলআইসি অফিসেও জোর করে তালা খোলানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই অফিসের নিরাপত্তারক্ষীকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসেন স্থানীয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পরিতোষ কুন্ডু ও একদল তৃণমূল কর্মী।

বর্ধমানের কেতুগ্রামে ফুলকুঁড়িতে জোর করে দোকান খোলানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে চরকি ব্রিজের কাছে পুলিসের সামনেই সিপিআইএমের একটি অফিস ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।
হাওড়ার মৌরিগ্রামে ইন্ডিয়ান অয়েলের ডিপোতে সিটু সমর্থক কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কারখানার গেটে সিটু সমর্থকেরা পিকেটিং করার সময় তাদের উপর হামলা চালায় তৃণমূল সমর্থকেরা।
বালুরঘাট পুরসভার গেটে পুলিসের সামনেই ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারিতে তৃণমূল সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর আহত হন ৬ জন সিপিআইএম কর্মী। মাথায় টাঙ্গির কোপ মারা হয় তিনজনকে।

বীরভূমের মহম্মদবাজার ও গনপুরে ধর্মঘটের সমর্থকদের মিছিলের উপর ব্যাপক লাঠি চালায় পুলিস।
বারুইপুর ডাকঘরে জোর করে তালা খোলানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পোস্ট মাস্টার সূর্য বালিকে নিগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ।
সরকারের বিরোধিতার সবরকম প্রচেষ্ঠা সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে সাধারণ ধর্মঘটের প্রভাব ভালই ছিল। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড ও দাশনগর শিল্পাঞ্চলে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ থাকায় উত্পাদন হয়নি। কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতির হারও ছিল লক্ষ্যনীয়ভাবে কম। বার্ণস্ট্যান্ডার্ডের পাশাপাশি অধিকাংশ জুটমিলেও কর্মীদের হাজিরা কম ছিল। ব্যারাকপুরেও ধর্মঘটের ভালই প্রভাব পড়েছে। খড়দহ থেকে কাঁচরাপাড়ায় মোট ২৫টি জুট মিলের মধ্যে বেশিরভাগই বন্ধ ছিল। যদিও ইলেকট্রোস্টিল, টেক্সম্যাকো, এক্সসাইডের মত ভারী শিল্পগুলিতে কর্মীদের হাজির ছিল ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। তারাতলা, বজবজ ও বন্দর শিল্পাঞ্চলে মোট ৬৫টি কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা ২১ হাজারের কাছাকাছি। মঙ্গলবার কারখানাগুলিতে হাজির ছিল ৩ শতাংশের কাছাকাছি।
যদিও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে এদিন হাজিরা ভাল ছিলই বলেই দাবি করেছে ন্যাসকম। কগনিজ্যান্ট, টিসিএসের মত বড় সংস্থাগুলিতে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ, ছোট সংস্থা গুলিতে ৬৫টি শতাংশ ও বিপিও গুলিতে ১০০ শতাংশ হাজিরা ছিল বলে জানিয়েছে ন্যাসকম। উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতেও সাধারণ ধর্মঘটের ভালই প্রভাব পড়েছে। বন্ধ ছিল বেশিরভাগ চা বাগান। দুর্গাপুরে ডিএসপি, অ্যালয় সহ বড় কারখানাগুলিতে ৫০ শতাংশ হাজিরা থাকলেও  ছোট কারখানাগুলিতে হাজিরা ছিল ১০ থেকে ৩০ শতাংশ।
হলদিয়াতেও ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। হলদিয়া পেট্রোকেম, মিতসুবিশি, আইওসিতে কর্মীদের হাজিরা ছিল ৫০ শতাংশ। ধর্মঘটে রাজ্যের শিল্পাঞ্চলে ভালই সাড়া মিলেছে বলে দাবি করেছেন ধর্মঘটী শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। যদিও শ্রমমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর দাবি মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের তেমন প্রভাব পড়েনি। 



First Published: Tuesday, February 28, 2012 - 23:37


comments powered by Disqus