স্বজনপোষণের অভিযোগ সুকুমার হাঁসদার বিরুদ্ধে

Last Updated: Tuesday, March 26, 2013 - 09:49

স্বজনপোষণের এক বেনজির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খোদ মন্ত্রী। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ণ পর্ষদের মন্ত্রী ডাঃ সুকুমার হাঁসদার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। গরীব মানুষের জন্য দেওয়া অধিকার প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে তৃণমূল নেতা ও তাঁদের আত্মীয়দের। এমনকী নির্দিষ্ট ব্লকের টাকা দেওয়া হয়েছে সেই ব্লকের বাইরের বাসিন্দাকেও।
অধিকার প্রকল্প। গরীব মানুষদের বাড়ি তৈরি করার জন্য টাকা দেওয়া হয় এই প্রকল্পে। দু দফায় মোট ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরে বিনপুর একনং ব্লকে এই প্রকল্পের চেক বিলি ঘিরে পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের টাকা পাইয়ে দিতে নিয়মনীতির কোনও তোয়াক্কাই  করেননি খোদ মন্ত্রী। শনিবার লালগড় বিডিও অফিস থেকে এলাকায় মোট একশো দশজন বাসিন্দার হাতে অধিকার প্রকল্পের চেক তুলে দেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী সুকুমার হাঁসদা। কিন্তু, এদের মধ্যে এমন বারোজন রয়েছেন যাঁদের বাড়ি বিনপুর এক নং ব্লকেই নয়।
চেক পেয়েছেন বিজিত মাহাত, মানিকপাড়া তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি। একসময়ে জনসাধারণের কমিটির সদস্য বিজিতবাবু বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। মহাজনি ব্যবসা করে রীতিমতো পাকা বাড়ি, গাড়ির মালিক তিনি। স্বামীর টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করছেন স্ত্রী শুক্লা মাহাত।
দ্বিতীয় প্রাপক, রঞ্জিত মাহাত, মানিকপাড়া তৃণমূল অঞ্চল কোর কমিটির সদস্য এলাকায় তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত রঞ্জিত মাহাতর ধান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মানিকপাড়ায় রীতিমতো পাকা বাড়ি রয়েছে তাঁর। এমনকি এলাকায় বালি কেনাবেচা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রঞ্জিতবাবু। শনিবার চেক নিয়েছেন তিনিও।
তৃতীয় প্রাপক অমল দাস, তৃণমূল নেতা। মানিকপাড়ার দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। পাকা বাড়ির মালিক অমলবাবুও অধিকার প্রকল্পে চেক পেয়েছেন। যদিও, তাঁর দাদা তা মানতে নারাজ।
শুধু এই তিনজন নয়, চেক প্রাপকের তালিকায় নাম রয়েছে বিনপুর এক নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মাহাত, তৃণমূল জেলা পঞ্চায়েত নেতা তপন ব্যানার্জির মা রেবারানি ব্যানার্জি, তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী চিকনবালা মাহাত সহ আরও অনেকের। এদেঁর মধ্যে কেউই বিনপুর ১নং ব্লকের বাসিন্দাই নন। প্রশ্ন উঠছে, কোন মাপকাঠিতে এঁরা অধিকার প্রকল্পে চেক পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হলেন? যে প্রকল্পের পঞ্চাশ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ করে থাকে সেখানে নির্লজ্জ স্বজনপোষন কেন? খোদ মন্ত্রীই বিধায়ক হিসাবে এই নামগুলি নির্বাচিত করেছেন। সেক্ষেত্রে সরাসরি মন্ত্রী ডাঃ সুকুমার হাঁসদার বিরুদ্ধেই এই দূর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে।
 
 
 



First Published: Tuesday, March 26, 2013 - 09:49


comments powered by Disqus