ঘরছাড়াদের সামনে সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সূর্যকান্ত মিশ্র

Update: May 23, 2012 22:14 IST

ঘরছাড়া বামকর্মীদের ঘরে ফেরানো, রাজনৈতিক সন্ত্রাস সহ একাধিক ইস্যুতে জেলাজুড়ে দুদিনের কর্মসূচী নিয়েছিল হুগলি বামফ্রন্ট। মঙ্গলবার প্রতিবাদ মিছিলের পর বুধবার ফের  চুঁচুড়া ময়দানে সমাবেশে সামিল হন বাম নেতাকর্মীরা।  সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র, সুভাষ নস্কর, নরেন দে এবং সুদর্শন রায়চৌধুরী-সহ জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্বও। এদিন একাধিক প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন বিরোধী দলনেতা।

হুগলিতে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দাবিতে দুদিনের কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিনে সমাবেশে যোগ দেন রাজ্যের শীর্ষ বাম নেতৃত্ব। বুধবার চুঁচুড়া ময়দানে এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্কর, নরেন দে এবং সুদর্শন রায়চৌধুরী-সহ জেলা বামফ্রন্টের নেতৃত্ব।  মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে কার্যত চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন বিরোধী দলনেতা।
 
জেলা বামফ্রন্টের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই আরামবাগ, জাঙ্গিপাড়া, তারকেশ্বর-সহ হুগলির বিভিন্ন এলাকায় ঘরছাড়া হয়েছেন ১,৬০০-র বেশি দলীয় নেতা-কর্মী। অভিযোগ, দলীয় কার্যালয়ে হামলার পাশাপাশি গত একবছরে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন ৮ জন বামকর্মী।
 
তবে শুধুই রাজনৈতিক সন্ত্রাস নয়। বিরোধী দলনেতার তোপের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকারের একাধিক ভ্রান্ত নীতিও।  রাজ্য সরকারের তরফে আয়োজিত বিভিন্ন উত্সবের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র।
 
বিরোধী দলনেতার দাবি,  মুকুল রায় খাতায় কলমে রেলমন্ত্রী হলেও, কার্যত রেলমন্ত্রক চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও রেলে কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের তরফে বারবার দেওয়া হয়েছে তা এখনও অধরা।
 
একবছরে দশবছরের কাজ করেছেন বলে যে দাবি মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেন সূর্যকান্ত মিশ্র। 
 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।