প্রাথমিকে টেট পরীক্ষা, চূড়ান্ত হয়রানির শিকার পরীক্ষার্থীরা

Last Updated: Monday, April 1, 2013 - 09:33

কোনওমতে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়েও নিস্তার মেলেনি। পৌঁছতে যতটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, বেরিয়েও ততটাই হয়রানির শিকার হলেন পরীক্ষার্থীরা। বারবার সামনে এল নজিরবিহীন এক অব্যবস্থার ছবি।
টেট পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য হাপিত্যেশ পরীক্ষার্থীদের। ইসলামপুর, চোপরা, গোয়ালপোখরের ছবিটা একই রকম।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে প্রথমে চব্বিশ নম্বর জাতীয় সড়ক  এবং রায়গঞ্জ বালুরঘাট রাজ্য সড়কের সংযোগস্থল শিলিগুড়ি মোড় অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে পুলিস এসে তাঁদের আশ্বস্ত করে। পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জানানো হয়েছিল, লরিতে তুলে দেওয়া তাঁদের। সাতটা নাগাদ অবরোধ তুলে নেন পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু যাঁদের সঙ্গে পুরুষ সঙ্গী নেই, নিরপাত্তার অভাব বোধ করায় লরিতে উঠতে সাহস করেননি তাঁদের অনেকেই। বাসও পাননি। রাতে যে যেখানে পেরেছেন কোনওমতে ঘর ভাড়া করে থেকেছেন।
ভিড় বাসের মধ্যে জায়গা মেলেনি। বাসের সংখ্যাও ছিল কম। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য অগত্যা বাসের ছাদেই উঠতে বাধ্য হয়েছিলেন আসানসোলের বার্নপুরের বহু পরীক্ষার্থী। তেমনই একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা মারে রেলের ওভারব্রিজে। চলন্ত বাসের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন চার পরীক্ষার্থী। প্রত্যেকেরই মাথায় চোট লেগেছে।  
প্রথমে তাঁদের বার্নপুরের ইস্কো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আসানসোল মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। চারজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়।
সবাই যখন পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার যুদ্ধে ব্যস্ত, তখন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জয়নগরের মণিরতট রাইমণি ইন্সটিটিউশনে পরীক্ষা শুরুর চেষ্টা চলছে। পরীক্ষার্থী ছিলেন প্রায় ছশো জন। ছশ জনের অ্যাডমিট কার্ডেই ওই পরীক্ষাকেন্দ্রেরই নাম লেখা ছিল। কিন্তু দেখা যায় চারশো জনের পরীক্ষা দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে ওই কেন্দ্রে। অর্থাত্ বাকি দুশ জনের জায়গা নেই।  
পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পণ্ড হয়ে যায় পরীক্ষা। পুলিসের হস্তক্ষেপে শেষপর্যন্ত বেলা সাড়ে চারটে নাগাদ যখন পরীক্ষা নেওয়ার তোড়জোড় হচ্ছে, তখন সেখানে হাজির আড়াইশো পরীক্ষার্থী।
বাকিরা হয়রান হয়ে পরীক্ষা না দিয়েই ফিরে চলে যান।



First Published: Monday, April 1, 2013 - 09:33


comments powered by Disqus