থমথমে বামনঘাটায় আজ মুকুলের সভা, রাজ্যে প্রতিবাদে বামেরা

Update: January 8, 2013 23:19 IST

থমথমে বামনঘাটায় আজ সভা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। সভার প্রধান বক্তা মুকুল রায়। এলাকায় মিছিল করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রসে। স্থানীয় মানুষের আশঙ্কা এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াবে। বামনঘাটায় আজও পরিস্থিতি বেশ থমথমে। পুলিস পিকেট রয়েছে।

এদিকে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছে সিপিআইএম সহ বাম দলেরা।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গতকাল সারাদিন ঠিক কী ঘটেছিল বামনঘাটা আর ভাঙড়ে--


ভাঙড়ের কাঁটাতলায় রেজ্জাক মোল্লার ওপর হামলার পর এবার উত্তপ্ত বামনঘাটা। বিক্ষোভ সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলার শিকার সিপিআইএম সমর্থকরা। বোমাবাজি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি গুলি চলেছে বলেও অভিযোগ। কী ঘটেছিল আজ বামনঘাটায়? মিছিলে হামলা থেকে কীভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে? 

সময়: সকাল ১১টা
 
ভাঙড়ের পাগলাহাটের তিন নম্বর কলোনি। রেজ্জাক মোল্লার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে যোগ দিতে এখানেই জমায়েত করেছিলেন জেলার সিপিআইএম কর্মী সমর্থকরা। বাস, ম্যাটাডোর ট্রেকার মিলিয়ে প্রায় ষাটটি গাড়ির কনভয় নিয়ে শুরু হয় মিছিল।

সময়: সকাল ১১.৩০
 
সিপিআইএমের কনভয় তখন কাঁটাতলার কাছে। খবর আসে, বামনঘাটায় তৃণমূল মিছিল করছে।  তখনই ওসি-কে ফোন করেন সিপিআইএম নেতা সাত্তার মোল্লা। ওসি তাঁদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন।
 
সময়: সকাল ১১.৪০
 
কোনও সমস্যা হবে না। ফোনে ওসি-র আশ্বাস পেয়ে ফের রওনা দেয় সিপিআইএম সমর্থকদের গাড়িগুলি।
 
সময়: বেলা ১২.১০
 
সিপিআইএম সমর্থকদের প্রায় ৪০টি গাড়ি বামনঘাটা পেরিয়ে তখন বানতলার কাছে। খবর আসে, বামনঘাটা মোড়ে শেষের দিকে কয়েকটি গাড়িতে হামলা হয়েছে।
 
সময়: বেলা ১২.৩০
 
বামনঘাটার মোড়ে পরিস্থিতি তখন অগ্নিগর্ভ। অভিযোগ, সিপিআইএমের মিছিলে থাকা গাড়িগুলির ওপর চলছে ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর। হচ্ছে ব্যাপক বোমাবাজি, চলছে গুলিও। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম নিজে গুলি চালান। প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করেন সিপিআইএম সমর্থকরা। আহত অনেকে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। কেউ ইটের আঘাতে জখম, কেউ গুলিবিদ্ধ।
 
এক ঘণ্টারও বেশি সময় এমনই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ছিল। ঘটনাস্থলে মোতায়েন অল্পসংখ্যক পুলিসকর্মী কোনও কাজেই আসেনি বলে অভিযোগ। এরই মাঝে আহত সিপিআইএম সমর্থকদের নিয়ে গাড়ি করে কলকাতার পথে রওনা দেন কয়েকজন।
 
সময়: দুপুর ২টো
 
বেশ কয়েক দফা চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিসবাহিনী। সঙ্গে দমকল। রাস্তার ধারে তখন সার দিয়ে জ্বলছে একের পর এক গাড়ি। পথে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙচুরের অজস্র চিহ্ন। দুপাশে দাঁড়িয়ে বহু তৃণমূল সমর্থক। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে দমকল। কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকায় পৌঁছয় র‌্যাফ। থমথমে বামনঘাটায় শুরু হয় টহলদারি।






Post Your Comment

Total Comments:3

সে তোমরা যত ক্ষমতাবান হও না কেন, আদালতের কাঠগড়ায় তোমাদের দাঁড়াতে হবে-ই। ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাস ! ...আর চুপ করে থাকা নয়! প্রতিবাদ কর !!!

EI DINTAR JANYA MANUS KI APEKSHA KORCHILO? EI KI AMADER PARIBARTANER AWAJ? EKJON 72 BACHAR ER MANUS KE MARDHAR KORE BIRATTER(ARABUL) PORICHAY DITE HOCHCHE AMADER ARABUL SAHEB KE.ER AGE UNI EKJON TEACHER (LADY)ER OPOR BIROTTO DEKHIECHEN.AMAR TO MONE HOI ARABUL SAHEB PURUSH ER NAME SAMAJER KOLONKO. DHIK ARABUL SAHEB MANUS KE SAMMAN DIN NA HOLE AAR DUDIN PORE APNAKE KHUJE PABE NA KEU.

Ganatantra na Dalotantra?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।