বীরভূমে জয়ী তৃণমূল, তবুও পরাজিত অনুব্রত

Last Updated: Tuesday, July 30, 2013 - 06:53

রাতের অন্ধকারে নির্দল প্রার্থীর বাবাকে খুন। নির্দল প্রার্থীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া।প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করতে চেষ্টার ক্রুটি ছিল না। ভোটের ফল কিন্তু বলছে সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের উস্কানির পরও কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের বারোটি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছেন নির্দল প্রার্থীরা।
অনুব্রত মণ্ডলের খাসতালুক বোলপুর সহ বীরভূমের পাঁচটি পঞ্চায়েত সমিতি ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিয়েছিল তৃণমূল। লাভপুর পঞ্চায়েত সমিতির কোনও আসনেই প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধীরা। তবে, বোলপুর, ইলামবাজারের মতো পঞ্চায়েত সমিতিগুলির
যেকটি আসনে ভোট হয়েছে তার অধিকাংশেই নাস্তানাবুদ হয়েছে শাসকদল। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতেও ধরা পড়েছে একই ছবি। সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে মাঠ ফাঁকা করে দেওয়ার পরও যেসব আসনে বিরোধীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেখানে হারের আশঙ্কাতেই কি প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল ?
 
বীরভূমের পাড়ুইয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতির এই বক্তৃতার পরের দিনই স্থানীয় কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দল তথা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল প্রার্থী রবিলাল সোরেনের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়।
গুলি করে খুন করা হয় আরেক নির্দল প্রার্থী হৃদয় ঘোষের বৃদ্ধ বাবা সাগর ঘোষকে।
প্রচারপর্বে লাগাতার সন্ত্রাসের জেরে ঘরছাড়া ছিলেন হৃদয় ঘোষ। তিনি জিততে না পারলেও কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতে নিজের আসনে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতেছেন নির্দল প্রার্থী রবিলাল সোরেন। জয়ী হয়েছেন জেল হেফাজতে থাকা নির্দল প্রার্থী রহমতউল্লা। বারো আসনের গ্রাম পঞ্চায়েতে পাঁচটির দখল নিয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা। ভোটারদের হাতে ভালোরকম শিক্ষা পাওয়ার পর তাই কি সুর নরম করে বিক্ষুব্ধদের দলে ফেরানোয় জোর দিচ্ছেন অনুব্রত মণ্ডল ?
 
বীরভূমের লোবায় জমির বিনিময়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে গ্রামবাসীদের আন্দোলনে গুলি চালিয়েছিল পুলিস। কৃষিজমি রক্ষা কমিটির 
ব্যানারে পঞ্চায়েত ভোটে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হন গ্রামবাসীরা। লোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি আসনে জয়ী হয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন তাঁরা।
 
   
 
 



First Published: Tuesday, July 30, 2013 - 06:53


comments powered by Disqus
Live Streaming of Lalbaugcha Raja