ধর্মঘটে বিক্ষিপ্ত অশান্তি জেলায় জেলায়

Last Updated: Wednesday, February 20, 2013 - 09:56

এগারোটি ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট ঘিরে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলছে বিভিন্ন জেলা থেকে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কী ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়---
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি-- ধর্মঘটীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। কাঁথির বড় ডাকঘরের সামনে কয়েকজন ডাক কর্মীকে নিয়ে পথসভা করছিলেন ডাক ইউনিয়নের ডিভিশনাল সেক্রেটারি অজিত রানা। অভিযোগ সেসময় তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল থেকে ওই সভায় হামলা চালানো হয়। মারধরে গুরুতর জখম হয়েছেন অজিত রানা এবং কয়েকজন ডাককর্মী। অজিত রানার মাথা ফেটে গেছে বলে খবর। তাঁকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দেখুন বিভিন্ন জেলায় কেমন চলছে ধর্মঘট
আসানসোল-- দফায় দফায় সিপিআইএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আসানসোল বাজার এবং বিএনআর মোড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়  বিশাল পুলিসবাহিনী এবং র‌্যাফ। এর জেরে সকাল থেকে যে কটি সরকারি-বেসরকারি বাস পথে নেমেছিল, তাও বন্ধ হয়ে যায়।
পশ্চিম মেদিনীপুর--
শাসকদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগড়ে। অভিযোগ, সিপিআইএমের নারায়ণগড় লোকাল কমিটির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় তৃণমূল কংগ্রেস। দাঁতনেও সিপিআইএমের স্থানীয় কার্যালয়ে ঢুকে কয়েকজন মহিলাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। 
উত্তর চব্বিশ পরগনা-- অশান্তির খবর মিলেছে নিমতা থেকেও। ধর্মঘটীদের মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এক সিপিআইএম নেতাকে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত হয়েছেন দুই মহিলা। ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল করছিল সিপিআইএম। বিরোধিতায় পাল্টা মিছিল চলছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। অভিযোগ আচমকাই সিপিআইএমের মিছিলে হামলা চালায় শাসকদলের সমর্থকরা। মারধর করা হয় সিপিআইএমের নিমতা আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক অশোক সরকারকে।
যশোর রোড অবরোধ নিয়ে মধ্যমগ্রামেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সিপিআইএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিস।
উত্তর দিনাজপুর-- রায়গঞ্জেও একটি বাসে ভাঙচুর চালায় ধর্মঘটীরা। ইসলামপুরে ১৪ জন ধর্মঘট সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিস।
পুলিসের বিরুদ্ধে স্কুলের তালা ভেঙে ছাত্রদের ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে উলুবেড়িয়ায়। অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা না আসায় স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতিকে নিয়ে স্কুলে হাজির হয় পুলিস। এরপর তাঁর উপস্থিতিতেই শ্যামপুর থানার দেওড়া হাইস্কুলের তালা ভেঙে ছাত্রদের ঢোকানো হয়।
রাজ্যের অন্য জেলাগুলিতেও ধর্মঘটের ভালোই প্রভাব পড়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকান বাজার। রাস্তা কার্যত জনমানবহীন। হাওড়াতে সরকারি বাস চললেও পথঘাট অন্যদিনের তুলনায় শুনশান। ভাল সাড়া মিলেছে বর্ধমানে। চলছে না সরকারি বাস। হাতে গোনা কিছু বেসরকারি বাস পথে নেমেছে। বন্ধ এটিএম পরিষেবা। মুর্শিদাবাদেও বন্ধ রয়েছে দোকানবাজার। সরকারি বেসরকারি কোনও বাসই চলছে না। দক্ষিণ দিনাজপুরেও ধর্মঘটের প্রভাবে সকাল থেকে পথঘাট শুনশান। চলছে না বাস। শিলিগুড়িতে সরকারি বাস পথে নামলেও চলছে না বেসরকারি বাস। ধর্মঘটের আংশিক প্রভাব পড়েছে পাহাড়ে। বন্ধ রয়েছে শিলিগুড়ি-সিকিম একত্রিশের এ জাতীয় সড়ক। তরাই ও ডুয়ার্স এলাকায় অবশ্য ধর্মঘটের সর্বাত্মক প্রভাব পড়েছে। কারণ সিটু, আইএনটিইউসি-র পাশাপাশি সেখানে ধর্মঘটের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের শ্রমিক সংগঠন।



First Published: Wednesday, February 20, 2013 - 16:22


comments powered by Disqus