জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টলিপাড়ার অলিতে-গলিতে এখন একটাই নাম—অনির্বাণ ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিনের ‘অঘোষিত’ নিষেধাজ্ঞা আর ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই অভিনেতা-গায়ক। তবে এবার তিনি একা নন, তাঁর হয়ে কার্যত যুদ্ধের ময়দানে নামলেন টলিউডের মেগাস্টার দেব এবং তাঁর জনপ্রিয় অন-স্ক্রিন জুটি সুপারস্টার শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন- Dev on Anirban: অনির্বাণের হয়ে ফেডারেশনের কাছে ক্ষমা চাইলেন দেব! ‘ব্যান’ তুলতে মুখ্যমন্ত্রীকে আর্জি মেগাস্টারের...
ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI)-এর সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে অনির্বাণের বিরোধ দীর্ঘদিনের। মানহানি মামলা থেকে শুরু করে ‘আজীবন অসহযোগিতা’র অলিখিত ফতোয়া—অনির্বাণকে কার্যত একঘরে করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বারবার। ফলে কাজ হারিয়ে তিনি মন দিয়েছিলেন নিজের ব্যান্ড ‘হুলিগানিজম’-এ। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অনির্বাণ তাঁর সেই যন্ত্রণার কথা তুলে ধরতেই টলিউডে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঠিক এই পরিস্থিতিতেই সোমবার একটি লাইভ সেশনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন দেব ও শুভশ্রী। আসন্ন পুজোয় ‘দেশু’ (দেব-শুভশ্রী) জুটির কামব্যাক ছবিতে অনির্বাণকে প্রধান খলনায়ক হিসেবে নেওয়ার জোরালো ইঙ্গিত দেন দেব। শুভশ্রী যখন সরাসরি প্রশ্ন করেন অনির্বাণের কাজ নিয়ে, "আমাদের ছবিতে অনির্বাণ কী থাকছে? ওকে কেন কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না?" তখন দেব কিছুটা স্পষ্টবক্তা হয়েই বলেন, "এতটাও ইনোসেন্ট নও তুমি"। শুভশ্রী দাবি করেন যে তিনি সত্যিই জানেন না।
এরপরেই অনির্বাণ প্রসঙ্গে দেব বলেন, তিনিও সঠিক জানতেন না। শ্যুটিঙে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জেনেছেন। দেব বলেন, "আমি চাই সবাই কাজ করুক। সবাই চেষ্টা করছি,যাতে ইন্ডাস্ট্রি চলে। একজন হিরোর ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। একজন শিল্পীর কাছে সম্মান ছাড়া আছে কী! তাকে কেন ক্ষমা চাইতে বলা হচ্ছে। আমরা কী শুধু কাঁকড়ার জাত। আমরা তো বিপ্লবীর জাতও ছিলাম। আমি চাইছি দেশু সেভেনে অনির্বাণ কাজ করুক।"
আরও পড়ুন- Dev-Subhashree Pujo Release: দেব আমাকে সেলিব্রেশনে ডাকেনি! অভিমান নিয়েই শুভশ্রীর বিস্ফোরণ, 'এমন ঘোষণা করব যা ভারতে কখনও হয়নি...'
দেব আরও জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেতার অভাব রয়েছে, সেখানে অনির্বাণের মতো প্রতিভাকে এভাবে কোণঠাসা করা দুর্ভাগ্যের। একজন শিল্পীর সম্মানের জন্য দেব নিজে ফেডারেশনের কাছে মাথা নত করতেও রাজি। দেব বলেন, "দশ মাস ধরে একজনকে ব্যান করে রাখলে, তার সংসার কী করে চলবে। আমি টেকনিশিয়ানদের অনুরোধ করছি, দশ মাস হয়ে গেছে। এবার কাজে ফিরুন। আমরা বাজে উদাহরণ সেট করছি। যাদের ব্যান করা হয়েছে, সবার হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি। বাংলা ছবি যাঁরা দেখেন, তাঁদের কাছে জানতে চাই, আপনারা কী চান?" শুভশ্রীও অনির্বাণের সমর্থনে সরব হয়ে বলেন, "আমাদের গর্ব—আমাদের কাছে অনির্বাণ আছে।"
অনির্বাণকে ফিরিয়ে আনার এই লড়াই এখন আর ব্যক্তিগত স্তরে নেই। এটি এখন টলিউডের ক্ষমতা বনাম শিল্পের স্বাধীনতার লড়াই। দেব কি পারবেন ফেডারেশনের অলিখিত নিয়ম ভেঙে অনির্বাণকে রূপালি পর্দায় ফেরাতে? নাকি আবারও সিন্ডিকেট রাজের কাছে হার মানবে সৃজনশীলতা? উত্তর পেতে এখন গোটা বাংলা দেবের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)