Real Rahman Dakit in Dhurendhar: অক্ষয়ের 'ধুরন্ধর'-এর রিয়েল 'রহমান ডাকেইত' ১৫ বছর বয়সেই খুন করে মাকে! হাড়হিম সত্য ঘটনা...
Real Rahman Dakit in Dhurendhar: মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্রাইমে তার হাতেখড়ি। একজন তাকে বাজি ফাটাতে বাধা দিয়েছিল। রহমান ওই ১৩ বছর বয়সেই ওই ব্যক্তিকে একের পর এক ছুরির কোপ বসায়
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ধীরে ধীরে মেগা হিটের দিকে এগিয়ে চলছে অক্ষয় খান্না, রনবীর সিং, অর্জুন রামপাল অভিনীত 'ধুরন্ধর'। দর্শকের নজর টেনেছে 'রহমান ডাকেইত'। বহু দিন পর অক্ষয় খান্না ফিরছেন এক ফেনোমেনাল রোল নিয়ে। হয়তো এই রহমান ডাকেইতই হতে চলেছে অক্ষয়ের জীবনের অন্যতম সেরা ক্যারেক্টারাইজেশন। আদিত্য ধরের ধুরন্ধর-এ যখনই অক্ষয় ওরফে রহমান ডাকেইত পর্দায় এসেছেন তখনই হলে সিটি বেজেছে। দর্শক পর্দা থেকে নজর ফেরাতে পারেননি। কিন্তু কে এই রহমান ডাকেইত? ধুরন্ধর-এ আদিত্য ধর রহমান ডাকেইতকে যেভাবে দেখিয়েছেন তার থেকেও জটিল, তার থেকেও আতঙ্কের চরিত্র রহমান ডাকেইত।
TRENDING NOW
সত্তরের দশকে সীমান্তের ওপারে কারাচিতে জন্মগ্রহন করে আব্দুল রহমান। সালটা ১৯৭৬। বাবা দাদ মহম্মদ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজার প্রথম সন্তান আব্দুল রহমান। করাচির অদুরে লায়েরি এমন এক বস্তি যেখানে চুরি ডাকাতি, 'খুনখার' অপরাধ একেবারে মামুলি ঘটনা। পুলিসের সঙ্গে অপরাদীদের নেক্সাসে লায়েরি হয়ে উঠেছিল আতঙ্কের এক নাম। দাদ মহম্মদ তাই ভাইদের সঙ্গে চালাতেন চালাতেন একটি মাদক পাচার চক্র। তাদের রাইভাল গ্যাং ছিল ইকবাল গ্যাং। ওরফে বাবু ডাকেইত। ছিল হাজি লালুর গ্যাংও। মাদক পাচার ছাড়াও তারা চালাত তোলাবাজির চক্রও।
লায়েরির প্রাক্তন পুলিস সুপার ফাইয়াজ খান এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্য়মে বলেন, মাদক পাচার যেসব গ্যাং করত তাদের মধ্যে পাঙ্গা লেগেই থাকত। পাশাপাশি তাদের মধ্যে লেগে থাকত জাতি দুশমনি। এর কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী লড়াই লেগে থাকত। এরকমই এক লড়াইয়ে রহমান বালোচের কাকা তাজ মহম্মদকে মেরে ফেলেছিল বাবু ডাকেইতের গ্যাং।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে অপরাধে হাতেখড়ি
এরকমই এক পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্যে রহমানের উত্থান। এটা যেন হওয়ারই ছিল। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্রাইমে তার হাতেখড়ি। একজন তাকে বাজি ফাটাতে বাধা দিয়েছিল। রহমান ওই ১৩ বছর বয়সেই ওই ব্যক্তিকে একের পর এক ছুরির কোপ বসায়। তাকে মারাত্ক রকম ঘায়েল করে ফেলে। এর ২ বছর পরই রহমান তাদের রাইভ্যাল গ্যাংয়ের দুজনকে সে খুন করে। হিসবে অনুযায়ী সেইসময় তার বয়স মাত্র ১৫ বছর।
মকে খুন
১৯৯৫ সালে ভয়ংকর এক ঘটনা ঘটায় রহমান। ওই বছর কয়েক মাস আগেই সে পুলিসের নাগাল থেকে পালিয়েছে। এর মধ্যেই সে নিজের বাড়ির ভেতরে মাকে গুলি করে মেরে ফেলে। ধরা পড়ে সে পুলিসকে জানিয়েছিল, মা ক্রমশ পুলিসের ইনফর্মার হয়ে উঠেছিল। তাই তাকে খুন করেছি। সেই সময় একটি রটনা ছিল রহমানের মায়ের সঙ্গে অন্য গ্যাংয়ের একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।
আরও পড়ুন-বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ মেসি, মাঠ ছাড়ার সময় সৌরভ বলেছিলেন, 'প্লিজ.....'
আরও পড়ুন-৬০ বছর আগে CIA-র কালো কীর্তি, নন্দাদেবীতে ফেলে আসে মারাত্মক নিউক্লিয়ার ডিভাইস! তাই বিপর্যস্ত হিমালয়?
রহমানের গ্রেফতার
১৯৯৫ সালে অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে রহমান গ্রেপ্তার হয়।আড়াই বছর জেলে কাটে। কিন্তু করাচি জেল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রানজিটে থাকাকালীন রহমান পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়। করাচি থেকে বালোচিস্তানে পালিয়ে যায় রহমান। সেখান থেকেই লায়েরিতে তাঁর উত্থানের ভিত স্থাপন করতে শুরু করে। ২০০৬ সালের মধ্যে, তিনি প্রভাব, সম্পত্তি এবং সম্পদ—সবই অর্জন করে। তিনবার বিয়ে করে। মোট ১৩ সন্তানের বাবা হয় রহমান। বলা হয়, করাচি ও বালোচিস্তান ছাড়া ইরানেও তাঁর সম্পত্তি ছিল।
লায়েরির গ্যা ওয়ার
রহমানের ক্ষমতায় উত্থান ছিল ব্যাপক রক্তপাত ও হিংসার প্রকাশ। প্রথমে সে এবং হাজি লালু একসঙ্গে মিলে মাদক ও জুয়ার ব্যবসা চালালেও, শীঘ্রই তাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এর ফলে লায়েরিতে এক বিশাল আকারের সহিংসতা শুরু হয়। অনুমান ৩,৫০০-এরও বেশি মানুষ ওই সংঘর্ষে নিহত হয়। ২০০০ সালের প্রথম দিকে রহমান বিরোধীদের নির্মূল করে লেয়ারির স্ব-নিযুক্ত 'রাজা' হিসেবে আবির্ভূত হন।
লায়েরিতে রেহমানের উত্থান এবং হিংসা ২০২১ সালে পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন লিখেছিল, রহমান চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র বিক্রি এবং আরও অনেক কিছুতে জড়িত ছিল। প্রায় এক দশক ধরে, গ্যাং যুদ্ধের কারণে লায়ারির জীবন অচল হয়ে পড়েছিল। কারণ ছিল রহমানের সঙ্গে তার রাইভ্যাল গ্যাংয়ের লড়াই।
এরমধ্যেই রহমানের মধ্যে জেগে রাজনৈতিক উচ্চকাঙ্খা। রহমান সিদ্ধান্ত নেয় রাজনৈতিক 'কিং মেকার'-এর চেয়েও বেশি কিছু তাকে হতে হবে। যেমন সিদ্ধান্ত তেমনই কাজ। নিজের নাম বদলে তিনি পরিচিত হন সর্দার আব্দুল রেহমান বালুচ নামে। গঠন করে ফেলে 'পিপলস আমান কমিটি'। এবার তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা যত বাড়ল ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ল হিংসা। লায়েরি বরাবরই ছিল এমকিউএমএবং পিপলস পার্টির কেন্দ্র। এই লায়েরি থেকেই কাকতালীয়ভাবে জুলফিকার আলি ভুট্টো এবং তাঁর কন্যা বেনজির ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী পদে উঠে এসেছিলেন।
লায়েরিকে গ্যাং মুক্ত করার জন্য ২০০৬ সালে চৌধুরী আসলামের অধীনে লায়েরি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। 'ধুরন্ধর' সিনেমাতে সঞ্জয় দত্ত পুলিসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। যেখানে তাঁকে একজন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পুলিস অফিসার হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেই বছরের জুনে, তারা রহমান ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও তা কখনও রেকর্ডে রাখা হয়নি।
এক বিদেশি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী রহমানকে গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরই আসলামের কাছে ফোন আসে আসিফ আলি জারদারির কাছ থেকে। এই জারদারিই পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। জারদারি নাকি আসলামকে বলেছিলেন, ওকে মেরো না। আদালতে পেশ করো। এনকাউন্টার করো না। এর পরে রেহমানকে গোপনে পুলিশ অফিসারদের বাড়িতে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেখান থেকেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কীভাবে মৃত্যু রহমানের
রেহমানের শত্রু বাড়ল লেয়ারিতে তার প্রভাব অব্যাহত ছিল। ২০০৯ সালে, ফোন ডেটা ট্র্যাক করে তার গতিবিধি জানার পর লেয়ারি টাস্ক ফোর্স তাকে আবার গ্রেপ্তার করার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পুলিস কোয়েটার কাছে তাকে আটক করে এবং সে একটি জাল পরিচয়পত্র দেখায়। যখন তাকে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়, তখন রেহমান একটি গাড়ির কাছে যান এবং দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে পান যে তার সামনে চৌধুরী আসলাম উপস্থিত। তাকে ওই একই গাড়িতে তোলা হয় এবং আটক করা হয়। বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল রহমান। কিন্তু আসলাম তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০০৯ সালে একটি পুলিশ এনকাউন্টারে রেহমান ডাকাত এবং তার তিন সহযোগী নিহত হয়। পরে পুলিস একটি বিবৃতি জারি করে জানায় যে সে খুন ও অপহরণ সহ ৮০টিরও বেশি মামলায় অভিযুক্ত ছিল।
পিপলস আমান কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মৌলানা আব্দুল মাজেদ সরবাজি, এই হত্যার পরে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে রেহমানকে তিন ফুট দূর থেকে গুলি করা হয়েছিল। এনকাউন্টারে এভাবে মানুষ মারা যায় না। এটা অত্যন্ত দুঃখের যে সাত বছর ধরে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছিল, তখন কেউ হস্তক্ষেপ করেনি, আর পরিস্থিতি যখন ভালো হলো, তখন তারা খান ভাইকে মেরে ফেলল। আমরা বুঝতে পারছি না কেন এমনটা হলো বা এর পিছনে কারা ছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)