)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর (Divya Bharti) মৃত্যু আজও বলিউডের এক রহস্যময় অধ্যায়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু চলচ্চিত্র জগৎ ও তাঁর অগণিত ভক্তদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময়ে তাঁর অকাল প্রয়াণ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এখনও শোনা যায়। এবার এক সাক্ষাত্কারে এই বিষয়ে মুখ খুললেন পহলাজ নিহালনী (Pahlaj Nihalani)।
দিব্যার সঙ্গে 'শোলা ঔর শবনম' ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন পরিচালক-প্রযোজক পহলাজ নিহালনী। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দিব্যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং মৃত্যুর দিনের কিছু অজানা কথা তুলে ধরেছেন পরিচালক-প্রযোজক। পহলাজ জানান, দিব্যার মৃত্যুর কথা জানতে পেরে তিনিই প্রথম হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন এবং সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি এখনও তাঁর চোখের সামনে ভাসছে।
১৯৯৩ সালের ৫ই এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মারা যান দিব্যা ভারতী। সেই সময় তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার স্ত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুকে পুলিস একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই চিহ্নিত করে। তবে এই মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি দিব্যার অনুরাগীরা।
সেদিন হাসপাতালে দিব্যাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে পহলাজ নিহালনী বলেন, হাসপাতালে তখন তিনি একাই ছিলেন, আর কেউ ছিল না। তিনি আরও জানান, "আমি জানতে পারলাম, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে গেলাম। তখনও দিব্যার পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছাননি। "
পহলাজ নিহালনী আরও বলেন, সংগীত পরিচালক যতীন পণ্ডিতের মাধ্যমেই দিব্যার সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়েছিল। "যতীনই ওকে আমার কাছে নিয়ে এসেছিল। প্রথম যখন এসেছিল, ছবির মধ্যে ওকে বেশ মোটা লাগছিল। আমি ওর ছবি পছন্দ করিনি, মুখটা খুব বড় লাগছিল।" প্রযোজক সেই সময় দিব্যাকে ওজন কমিয়ে আবার দেখা করতে বলেন। নিহালনী বলেন, "পরে যখন যতীন ওকে আবার নিয়ে এলো, ততদিনে 'শোলা ঔর শবনম'-এর শুটিং শুরু হয়ে গেছে, যদিও দিব্যা তখনও নায়িকা ছিল না। যতীন ওকে ফিল্ম সিটিতে নিয়ে এসে বলল, এখন ওকে দেখতে ভালো লাগছে, এবং আমি পরের দিন থেকেই শুটিং শুরু করতে বলে দিলাম।" এভাবেই দিব্যার 'শোলা ঔর শবনম' ছবিতে কাজের সুযোগ হয়।
পহলাজ নিহালনী দিব্যার কাজের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "একবার শুটিংয়ের সময় দিব্যার পায়ে একটি পেরেক বিঁধে গিয়েছিল এবং সেই কারণে পরের দিনের শুটিং বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু আহত হওয়া সত্ত্বেও দিব্যা কাজ করার জন্য জোর দেন। ওই অবস্থাতেও কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। তখন রাত ৩টে, আর সকাল ৬টার মধ্যে একটি গানের শুটিংয়ের জন্য ও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমি ওকে বলেছিলাম যে শুটিং বাতিল করা হয়েছে।"
যখন নিহালনী তাকে কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম নিতে বলেন, তখন দিব্যা নিজেই পরিস্থিতি নিজের হাতে তুলে নেন। নিহালনী বলেন, "পরের দিনের শুটিং বাতিল হওয়ায় আমি তখন ঘুমোচ্ছিলাম। আচমকা ও আমার ঘরে চলে আসে, হাউসকিপিংয়ের লোককে দিয়ে দরজা খোলায়ে এবং আমার বুকের উপর বসে বলল, 'ওঠো'। আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করেছিল, 'কে এই মেয়েটা?' আমি আর আমার স্ত্রী দুজনেই ঘুমাচ্ছিলাম, আর ও এসে সটান আমার বুকের উপর বসে পড়েছিল।"
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)