জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শমীক অধিকারী ওরফে ‘ননসেন’-কে ঘিরে উত্তাল তিলোত্তমা। এক ২২ বছর বয়সী যুবতীকে মারধর ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে বেহালা থানার পুলিস। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে অভিযোগকারিণী নিজের গোপন জবানবন্দি দেন। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে শমীক এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন ওই যুবতী।
Add Zee News as a Preferred Source
যুবতীর দাবি, গত ২ ফেব্রুয়ারি নতুন ফ্ল্যাটে যাওয়ার আমন্ত্রণে তিনি শমীকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাত ৯টা নাগাদ বাড়ি ফিরতে চাইলে শমীক তাঁর ফোন কেড়ে নেন। ফোনের চ্যাটে এক বিরোধী কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে কথা বলতে দেখে শমীক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। যুবতীর কথায়, “আমাকে একটি ঘরে আটকে বেধড়ক মারধর করা হয়। চোখে এমন আঘাত করা হয় যে আমি সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ি। আমার চোখ ফুলে যায়। যেকোনও কিছু জিজ্ঞেস করলে, আমি যাই উত্তর দিই, আমাকে প্রবল মারে। মারের সঙ্গে সঙ্গে বলতে থাকে, তোকে ভালোবাসি তাই মারছি"।
আরও পড়ুন- Govinda: ভয়ংকর কাণ্ড! রাত ৩টের সময় বাড়ি ঘিরে নেয় দুষ্কৃতীরা, প্রাণ বাঁচাতে হাতে বন্দুক তুলে নেন গোবিন্দা...
অভিযোগ আরও গুরুতর— সারা রাত আটকে রেখে পরদিন সকালে আচমকাই ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে শমীক। বিষয়টি কাউকে জানালে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আঘাত ঢাকতে জোর করে মেকআপ করিয়ে মাস্ক পরিয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, শমীকের বাবা-মা এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই যুবতী দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং শমীকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঘটনার দিন যুবতী নিজেই ফুলের তোড়া নিয়ে এসেছিলেন। শমীকের বাবার দাবি অনুযায়ী, যুবতীর ‘মিথ্যা কথা’ ধরা পড়ে যাওয়ায় দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। শমীক রাগের মাথায় একটি চড় মেরেছিলেন— এ কথা স্বীকার করলেও, ধর্ষণ বা গুরুতর মারধরের অভিযোগ তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মেয়েটিকে স্যুপ খাওয়ানো থেকে শুরু করে ওষুধ দেওয়া— সবটাই করা হয়েছিল মানবিক খাতিরে।
আরও পড়ুন- Prosenjit Chatterjee: প্রসেনজিতের বাড়িতে সুকান্ত-রুদ্রনীল, উপহারে 'রামলালা'! কী কথা হল দু'জনের?
পুলিসি তদন্তে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং যুবতীর মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাজনৈতিক প্রভাবের তত্ত্ব উঠলেও শমীকের পরিবার তা নস্যাৎ করেছে। আপাতত আলিপুর আদালতের নির্দেশে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ তারিখ অবধি পুলিসি হেফাজতেই থাকবে শমীক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)