)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত কয়েক ঘণ্টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গায়িকা দেবলীনা নন্দী। নিজের জীবনের অসহ্য যন্ত্রণার কথা লাইভে এসে প্রকাশ করার পর, চরম সিদ্ধান্ত হিসেবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন গায়িকা। তবে সঠিক সময়ে বন্ধু সায়কের তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং স্থিতিশীল। সোমবারই জি ২৪ ঘণ্টাকে দেবলীনার মা জানান যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাহের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার দেবলীনা। এমনকী শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকেও দিনরাত দেবলীনা ও তাঁর মাকে মানসিক নির্যাতন করা হত, কথায় কথায় অপমান করা হত। এমনকী পুজোর আগে দেবলীনাকে বাড়ি থেকেও বের করে দিয়েছিল প্রবাহ।
রবিবার চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল দেবলীনাকে। আপাতত তিনি বিপন্মুক্ত। সোমবার হাসপাতালের বেড থেকে সায়কের করা দ্বিতীয় ভ্লগে ধরা দিলেন দেবলীনা। সেখানে তাঁকে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলতে শোনা যায়, "আমি তো অর্ধেক কাজ করতে চাইনি, পুরো কাজটাই করতে চেয়েছিলাম। অর্ধেক হয়ে যাবে ভাবিনি।" বন্ধুর এমন কথা শুনে সায়ক তাকে ধমক দিয়ে মনে করিয়ে দেন যে, ঈশ্বর তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়েছেন এবং এবার জীবনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা উচিত।
সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, দেবলীনা জানান, সেই রাতে দীর্ঘক্ষণ তিনি নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। বারবার ভেবেছিলেন হয়তো সবটা ঠিক হয়ে যাবে, হয়তো চরম এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না। তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্বামী প্রবাহকে তিনি মেসেজ করেননি। গায়িকার কথায়, "আমার বারবার মনে হয়েছে প্রবাহকে একটা মেসেজ করি, কিন্তু জানতাম কোনো উত্তর আসবে না।" এই অবহেলা এবং একাকীত্বের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই শেষমেশ মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খান তিনি।
অসুস্থবোধ করার পর দেবলীনা বুঝতে পারেন তিনি আর সামলাতে পারছেন না। তখনও স্বামীকে জানানোর ভরসা পাননি তিনি, বদলে মেসেজ করেন বন্ধু সায়ককে। সায়ক প্রথমে বিষয়টিকে মজা ভেবে বিশ্বাস করতে চাননি এবং প্রমাণ হিসেবে ওষুধের স্ট্রিপের ছবি দেখতে চান। দেবলীনা ছবি পাঠানোর পর পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সায়ক তৎক্ষণাৎ দেবলীনার গাড়ির চালক এবং আপ্ত সহায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের মাধ্যমেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় গায়িকাকে।
বিগত দেড় বছরের মানসিক লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গায়িকা। তিনি জানান, মা, সংসার আর কাজের চাপে তিনি পিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলেন। দেবলীনার কথায়, "এক সময় আমি নিজেকে সবথেকে বেশি ভালবাসতাম। কিন্তু বিয়ের পর প্রবাহকে এক নম্বরে জায়গা দিয়ে নিজেকে একদম শেষে নামিয়ে এনেছি।" মূলত নিজেকে অবহেলা করা এবং প্রিয়জনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত নেটিজেনরা গায়িকার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)