Sharmila Tagore: সম্পর্ক নিয়ে মা শর্মিলার থেকে বিশেষ পরামর্শ নিয়েছিলেন সোহা আলি খান। শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদি দুই ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন পেশার হলেও ৪৩ বছর একসঙ্গে সংসার করেন তাঁরা। বিয়ে সম্পর্ক নিয়ে মায়ের থেকে কী পরামর্শ পেয়েছিলেন সোহা, সে কথাই জানালেন সোহা আলি খান।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore) যখন ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদির (Mansoor Ali Khan Pataudi) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। মনসুর আলি খান পতৌদি বেড়ে ওঠেন নবাব পরিবারে আর শর্মিলা ঠাকুর পরিবারে। যেহেতু তাঁরা ভিন্ন ধর্মের ছিলেন, তাই তাঁদের সম্পর্ক সমাজের বেশ কিছু মানুষের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। তাঁদের জীবনযাত্রার ধরন আলাদা হওয়া সত্ত্বেও ৪৩ বছর চুটিয়ে সংসার করেন তাঁরা। শর্মিলা এবং মনসুর উভয়ের কর্মক্ষেত্রও ছিল আলাদা। দুজনেই দুজনের পেশায় অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের কন্যা সোহা আলি খান (Soha Ali Khan) জানান যে, একটি "একই পুরুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক" টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন, কিন্তু তাঁর বাবা-মা তা পেরেছিলেন। তিনি আরও বলেন যে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁর মা তাঁকে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এক সাক্ষাত্কারে সোহা বলেন যে, তাঁর মা প্রায়ই তাঁকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন, কারণ আধুনিক সমাজে মানুষ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে তাঁর মায়ের দেওয়া সম্পর্ক বিষয়ে সেরা পরামর্শের কথা বলতে গিয়ে সোহা বলেন, “২০১১ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত মা বিয়েটা টিকিয়ে রেখেছিলেন। আমার মনে হয়, একই পুরুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে থাকা খুবই চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে এখনকার দিনে। কারণ এখন অনেক বিকল্প পথ আছে”।
সোহা জানান, তাঁর মায়ের পরামর্শটি হয়তো তথাকথিত 'আধুনিক' নয়, তবে এটি তাঁর কাছে অর্থবহ মনে হয়, যদিও এই পরামর্শে ধরে নেওয়া হয়েছে যে সব পুরুষ ও মহিলার কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকে। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তাঁর এই পরামর্শ—'একজন পুরুষের অহং-এ আঘাত করো না এবং একজন নারীর আবেগে আঘাত করো না'—হয়তো আধুনিক দুনিয়ায় এই পরামর্শ যথাযথ নয়, কিন্তু আমার মনে হয় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।”
প্রসঙ্গত, শর্মিলা এবং মনসুর ১৯৬৮ সালে বিবাহ করেন। সেই সময় শর্মিলা একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা এবং মনসুর ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলছিলেন। শর্মিলা বিয়ের পরেও এবং তিন সন্তানের মা হওয়ার পরেও সিনেমায় অভিনয় চালিয়ে যান। এমনকী তিনি তাঁদের পরিবারের প্রধান রোজগেরে ছিলেন, কারণ সেই সময় ক্রিকেটারদের এত বেশি টাকা দেওয়া হতো না।
মনসুরকে বিয়ে করার সময় শর্মিলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁর নাম পরিবর্তন করে আয়েশা রাখেন। সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে একটি পুরনো আড্ডায় তিনি ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে বলেন, “এটা সহজও ছিল না আবার খুব কঠিনও ছিল না। এটাকে মোকাবিলা করতে এবং বুঝতে হয়েছিল। আগে, আমি খুব বেশি ধার্মিক ছিলাম না। এখন, আমি হিন্দু ধর্ম এবং ইসলাম উভয় সম্পর্কেই জানি।”
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)