)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জুবিন গর্গের মৃত্যুতে (Zubeen Garg Death) এবার গ্রেফতার গায়কের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও সিঙ্গাপুরের ফেস্ট আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত। ধৃতদের সিআইডির সামনে হাজির হওয়ার জন্য ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গায়কের মৃত্যু তদন্তে দুজনেই পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে অসমের ভূমিপুত্র গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যুর ১০ দিনেরও বেশি সময় পর, সিঙ্গাপুরে ফেস্টের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত এবং গর্গের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মাকে গ্রেফতার করল অসম পুলিস। ধৃতদের বুধবার সকালে গুয়াহাটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
জুবিন গর্গের মৃত্যু মামলায় প্রধান অভিযুক্ত শ্যামকানু মহন্ত এবং সিদ্ধার্থ শর্মা, দুজনকেই ৬ অক্টোবর অসম সিআইডির সামনে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু জুবিন গর্গের মৃত্যুর পর থেকে কেউই অসমে ফিরে আসেননি। এরপর সিঙ্গাপুর থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর শ্যামকানু মহন্তকে গ্রেফতার করা হয়। ওদিকে ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মাকে গুরগাঁওয়ে গ্রেফতার করা হয়। ৫২ বছর বয়সী জুবিন গর্গ সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই ১৯ সেপ্টেম্বর স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় মারা যান তিনি। জানা যায়, দ্বিতীয়বার তিনি লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন। ওদিকে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে গায়কের মৃত্যুর কারণ হিসেবে 'অসুস্থতা' উল্লেখ করা হয়েছে।
জুবিনের আকস্মিক মৃত্য়ুতে তাঁর স্ত্রী গরিমা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা যখন জানতেন যে সে সাঁতার কাটার মতো অবস্থায় নেই, তখন কেন তাকে জল থেকে তুলে নিলেন না? তাঁরা তো সহজেই সেটা করতে পারতেন! এছাড়াও জুবিনের মোবাইল-ই বা কোথায়? কেন তাঁর মোবাইল এখনও হাতে পেলেন না? প্রশ্ন স্ত্রীর। শেষ মুহূর্তে জুবিনের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল? জানতে চেয়েই তদন্তের দাবিতে CID-র দ্বারস্থ হয় গায়কের পরিবার। সব মিলিয়ে জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) মৃত্যু ঘিরে ক্রমশই বাড়ছে রহস্য।
গরিমা বলেন, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা জানতেন যে জুবিনের জল বা আগুনের কাছাকাছি যাওয়া উচিত নয়, কারণ তাতে তাঁর মৃগী রোগের অ্যাটাক শুরু হতে পারে। পরিবার আশা করেছিল যে জুবিনের সঙ্গীসাথীরা তাঁর খেয়াল রাখবেন, কিন্তু তাঁরা তা করেননি। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে ওষুধপত্র পাঠানো হলেও জুবিন তাঁর জন্য নির্ধারিত ওষুধ খেয়েছিলেন কিনা? তা নিয়েও নিশ্চিত নন গরিমা। গায়কের স্ত্রী জানান, "২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে তাঁর একবার অ্যাটাক হওয়ার পর থেকে তিনি কেবল একটি-ই ওষুধই খেতেন। আমি নিশ্চিত করেছিলাম যে তিনি যেখানেই যান—তা বাড়িতে হোক, গাড়িতে হোক বা স্টুডিওতে—তাঁর ওষুধ যেন থাকে।"
পাশাপাশি গরিমা আরও জানিয়েছেন যে, ঘটনার আগের দিন জুবিন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু ইয়ট ভ্রমণ বা স্কুবা ডাইভিংয়ের কোনও পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেননি। তাই তাঁর ধারণা, জুবিন নিজেও হয়তো এই বিষয়ে বিশেষ জানতেন না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)