পার্থ চৌধুরী: মারণ' ভাইরাসের (Nipah Virus) সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সতর্ক সব মহল। কিন্তু এরমধ্যেই জ্বর, সর্দি, কাশি ও বমির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক মহিলার মৃত্যুতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিপার মতো 'মারণ' ভাইরাসের সংক্রমণেই কি মৃত্যু ওই মহিলার? ওই মহিলা-ই কি নিপায় প্রথম মৃত্যু রাজ্য়ে? উত্তর মেলেনি। কারণ, নমুনা পরীক্ষার আগেই মৃত্যু হয় মহিলার৷ কিন্তু ওই মহিলার উপসর্গ মিলে যাচ্ছে নিপা উপসর্গের সঙ্গে। আর তারপরই নতুন করে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
Add Zee News as a Preferred Source
নিপা ভাইরাসের প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করেছে, যারা নিপা আক্রান্ত রোগী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, তাঁদের পরিবার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরি করেছেন।
নিপা ভাইরাসে নার্সের আক্রান্ত হওয়ার পর শুক্রবার পর্যন্ত চিকিৎসক,নার্স,স্বাস্থকর্মী ও পরিবারের সদস্য সহ মোট ১০৩ জনকে হোম কোয়ারান্টিন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম।
তিনি জানিয়েছেন,বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যে হাউস স্টাফ রোগীর ক্লোজ কন্টাক্টে ছিলেন তাঁকে কলকাতার বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যে ৮০ জনের স্যাম্পেল পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ১৮জনের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই চলে এসেছে। এই ১৮জনের মধ্যে ১৪ জন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এবং কাটোয়া হাসপাতালের ৪জন, প্রত্যেকেরই রিপোর্ট নেগেটিভ। এটা স্বস্তির কারণ।
মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক জানিয়েছেন, প্রথম দিন ৪৮ জন, দ্বিতীয় দিন ৮২ জন ছিলেন হোম কোয়ারান্টিন। এখনও পর্যন্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ১০৩ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককেই হোম কোয়ারান্টিন থাকতে বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসের নিশ্চিত রোগী বা নিপাহর মতো উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যদি কেউ রোগীর রক্ত, লালা, দেহের তরল পদার্থ কিংবা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে আসেন, তবে তাঁদের জন্য ২১ দিনের হোম কোয়ারান্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে বদ্ধ জায়গায় সময় কাটানোকেও 'উচ্চ ঝুঁকি' বা 'High Risk' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে।
উপসর্গ দেখা দিলে পদক্ষেপ: যদি কোয়ারেন্টাইন চলাকালীন জ্বর, প্রবল মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি (confusion), কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
আইসোলেশন: সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই রোগীদের সরাসরি আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখার ব্যবস্থা করবেন।
নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভাইরাসের সংক্রমণ কেবল সরাসরি শরীরী সংস্পর্শে নয়, বরং রোগীর ব্যবহৃত পোশাক বা অন্যান্য জিনিসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
প্রসঙ্গত,মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও তাঁরা নিশ্চিত নন কী ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
তবে খেজুর রস কাঁচা না খাওয়াই ভালো। তিনি জানিয়েছেন, নিপা কোভিডের মতো অতটা সংক্রামক নয়, তবে কোভিডের থেকে বেশি ভয়ংকর। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আতঙ্ক বাড়ানোর পরিস্থিতি নয়। তবে এব্যাপারে সচেতনতা দরকার। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা প্রত্যেককে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীরা ইতিমধ্যেই মাস্ক ব্যবহার শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: Nipah Virus: নিপা নিয়ে বিগ ব্রেকিং! সামান্য উপসর্গ থাকলেই তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক, কোভিড স্মৃতি ফিরল বাংলায়...
আরও পড়ুন: Nipah Virus: ফিরল কোভিডের স্মৃতি? নিপা থেকে বাঁচতে এবার হাসপাতালে গেলেই পরতে হবে মাস্ক! বড় নির্দেশ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের...
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)