Amit Shah On Mamata Banerjee: পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে জনসভায় 'এই দিদি' বলে সম্বোধন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে চড়ছে পারদ। তৃণমূলের অভিযোগ-- এটা শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, এটা নারীর প্রতি বিজেপির আসল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এদিনই জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে 'এই দিদি' বলে সম্বোধন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। শাসকদলের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত অসম্মান; বিরোধীদের মতে, এটি নির্বাচনী ভাষণের অংশ। প্রশ্ন উঠছে, রাজনীতির ভাষা কোথায় থামবে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল রাজনৈতিক ভাষা ও তার অন্তর্নিহিত বার্তা। পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে জনসভায় 'এই দিদি' বলে সম্বোধন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি কোনও সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। বরং ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতাদের মধ্যে গেঁথে থাকা এক ধরনের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, একজন সাংবিধানিক পদে থাকা মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং নারীর প্রতি এক ধরনের অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত।
এই বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচনী প্রচারে 'দিদি ও দিদি' বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা নিয়ে তৎকালীন সময়েও প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক সৌজন্য ও ভাষার সীমারেখা নিয়ে। এবার সেই ধারাবাহিকতাতেই 'এই দিদি' মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে-- একই রাজনৈতিক ভাষ্যের পুনরাবৃত্তি হিসেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জনসভায় ব্যবহৃত ভাষা শুধুমাত্র বক্তব্য নয়, বরং তা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। এই ধরনের শব্দচয়ন সাধারণ মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করতে পারে, আবার একইসঙ্গে বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ভাষা কি রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে? বিশেষত যখন বিষয়টি একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে, তখন কি এর মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক অসম্মানের ইঙ্গিত রয়েছে? তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তাদের বক্তব্য, বাংলার মানুষের আত্মসম্মান ও ‘বাংলার মেয়ে’ পরিচয়ের ওপর আঘাত হিসেবে এই মন্তব্যকে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে বিজেপি শিবির এখনও এই মন্তব্য নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে অতীতে তারা এই ধরনের ভাষাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে।
নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, রাজনীতিতে ভাষার ব্যবহার কতটা দায়বদ্ধ হওয়া উচিত? এবং ভোটাররা কি এই ধরনের মন্তব্যকে গুরুত্ব দেবেন, নাকি তা নির্বাচনী উত্তাপে হারিয়ে যাবে? একটি বিষয় স্পষ্ট-- বাংলার রাজনীতিতে ভাষা আর শুধু শব্দ নয়, তা এখন প্রতীক। সম্মান ও অসম্মানের, ক্ষমতা ও প্রতিবাদের।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)