)
প্রবীর চক্রবর্তী: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে কালীঘাটে বাড়িতে তল্লাশি ঝাড়গ্রাম থানার পুলিসের। আর তারপর থেকেই জোর চর্চায় অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। কে এই সুমিত রায়? এ যেন অনেকটা কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসার মতো! শনিবারের ভোরের তল্লাশির পর থেকেই সামনে আসছে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ।
এবার সুমিত রায়কে নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ, "এরাই ক্ষমতার বৃত্ত তৈরি করে রেখেছিল। কাউকে ঢুকতে দেয়নি সেখানে। অনেক নেতা, কর্মী বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি চেষ্টা করেছিল, আমিও যাতে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট না পাই। এদেরকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ফ্যান ক্লাব।" কুণাল ঘোষের সাফ কথা, "ক্যামাক স্ট্রিট আমায় পছন্দ করত না। আমিও ক্যামাক স্ট্রিটের বেশ কিছু কাজ পছন্দ করতাম না।"
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের এই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে ভোটে ভরাডুবির পর থেকে বহু তৃণমূল নেতাই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ও আইপ্যাক- ভোটে ভরাডুবির জন্য়ই এই দুইকে দায়ী করেছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতানেত্রীরা। তোপ দেগেছেন, দল চলত ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে। সেখানে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও নেত্রী বা অভিষেকের সঙ্গে দেখা পাওয়া যেত না। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে কোনও যোগ-ই ছিল না নেতৃত্বের।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় সুমিত রায়ের প্রভাব কতটা ছিল,তা উঠে এসেছে স্থানীয় বাসিন্দা রানা সিংহের অভিযোগে। তাঁর দাবি, সুমিতের প্রভাব থাকলেও এলাকায় আরও বেশি দাপট ছিল তাঁর বাবার। কারণ, সুমিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ হওয়ায় তাঁদের বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষের গাড়ি দাঁড় করানোরও সাহস ছিল না কারও।
রানা সিংহের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই সুমিত রায়ের বাড়িতে বিধায়ক, সাংসদ থেকে শুরু করে শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের আনাগোনা লেগে থাকত। এমনকি অনেক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককেও তাঁর বাবাকে প্রণাম করতে দেখা যেত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ফলতার তথাকথিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খানও নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমিত রায় এলাকার একটি ক্লাবেরও নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। আরও অভিযোগ, সমাজসেবার নামে কয়েক বছর আগে তিনি একটি নতুন দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পুজোর বাজেট কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে চাঁদাবাজির বিষয়টিও। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রতিটি পরিবারের সদস্যপিছু এক হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হতো। অর্থাৎ, কোনও পরিবারে পাঁচজন সদস্য থাকলে তাদের পাঁচ হাজার টাকা দিতে হতো। অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বা দিতে না পারলে হুমকি ও ভয় দেখানো হতো।
বিভা সূত্রধর নামে স্থানীয় আরেক মহিলার অভিযোগ, পুরসভার তরফ থেকে তৈরি করা বিল্ডিংয়ে তাঁর আরও একটি ঘর পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি সুমিতের ড্রাইভারের পাঁচুর দখলে চলে যায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)