শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়: ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ২টো। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি মেনে রেড রোডের ধরনা মঞ্চে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ধরনা মঞ্চের লক্ষ্য, যাতে একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ না পড়ে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর এই ধরনা। মঞ্চে উঠেই চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন তিনি। সাফ জানালেন, লড়াই শুধু আইনি পথে নয়, লড়াই হবে রাজপথেও। বাংলার রক্ষক তিনি, সেই বার্তা দিতে ধরনায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন- Global Diesel Prices Surge: বাহরাইনের সর্ববৃহত্ তেল শোধনাগার BAPCO-য় মিসাইল হামলা, হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম...
যে ২২ জন ভোটারকে নির্বাচন কমিশন নথিতে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছে, তাঁরা সশরীরে হাজির ছিলেন মমতার পাশে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দেখিয়ে গর্জে উঠে বলেন, “দেখুন, এঁরা মৃত নন, দিব্যি বেঁচে আছেন। অথচ ভোটার তালিকা থেকে নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। যারা বেঁচে আছে অথচ মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে... লজ্জা রাখার জায়গা নেই। নির্লজ্জ, বেহায়া বিজেপি পার্টি এবং তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন।” মৃত ঘোষিত ওই ব্যক্তিদের মঞ্চে ‘প্যারেড’ করিয়ে মমতা হুঁশিয়ারি দেন, তৃণমূল প্রতিটি বুথে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খবর রাখে এবং এই অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়বে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনায় সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ শিল্পী কবীর সুমন ও কবি জয় গোস্বামী। কবীর সুমন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণ করেন গেরুয়া শিবিরকে। তিনি বলেন, “আমাদের সকলের নেত্রী (যদিও তিনি সবসময় বলেন তিনি আমার বোন), অতএব আমাদের বোন, আমাদের বন্ধু সুপ্রিম কোর্টে যে পদক্ষেপ করেছেন, সেটা না করলে এসআইআর নিয়ে এত হইচই হত না। এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। আমার নাম যেমন অধিকার, আমার ভাষায় আমার কথা বলার যেমন অধিকার রয়েছে সেরকমই ভোট দেওয়া আমার মৌলিক অধিকার। আমরা যাকে ইচ্ছে ভোট দিতে পারি আর আমরা ভোট দেবই। পরাজয় স্বীকার করে নিক বিজেপি, ওরা নিজেদের কবর গড়ে নিয়েছে। বিজেপি গবেট, বিজেপি নিরেট। ওদের নেতারা আবার বলছেন, 'আমরা জিতবই'। ওরা বুঝতে পারছে না, ওরা কোনওদিনই জিতবে না, সম্ভব নয়। আমি মোটেও মনে প্রাণে তৃণমূল নয়। তবে বলছি, বিধানচন্দ্র রায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানেই এই শহর এত সুন্দর। আমি নিশ্চিত, বাংলা জিতবে, বাংলা ভাষা জিতবে"। তিনি আরও বলেন, "বিজেপির উপর অযথা রাগ করবে না, ওদের গাল টিপে দেবেন, যার তার উপর রাগ করবেন না। ওরা এমনিই হেরে গিয়েছে। ”
আরও পড়ুন- IAF Sukhoi Missing: অসমের জোরহাটে ওড়ার পরই নিখোঁজ ২ পাইলট-সহ সুখোই-৩০, শুরু বিশাল তল্লাশি অভিযান...
কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল কবি জয় গোস্বামীর। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “৭২ বছর বয়সে আমার বাড়িতে ফোন আসে যে আমাকে প্রমাণ করতে হবে আমি ভোট দিতে পারি কি না! ৯০ বছরের বৃদ্ধদেরও এই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।” নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, মানুষের জন্য লড়ার মানসিকতা মমতার মজ্জাগত। বামপন্থী নাট্যকারদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে বাজারের আনাজপাতির দর নিয়ন্ত্রণ— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দায়বদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী তিনি আগে দেখেননি।
উল্লেখ্য, এদিনের মঞ্চে শুধু মৃত ঘোষিত ভোটাররাই নন, ছিলেন এসআইআর প্রক্রিয়ার জটিলতায় প্রাণ হারানো আটটি পরিবারের সদস্যরাও। মমতা স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচন কমিশনের এই ‘দলদাসের মতো আচরণ’ বাংলা মেনে নেবে না। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মমতার এই ধরনা রাজ্য রাজনীতিতে অবশ্যই যোগ করল এক নতুন মাত্রা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)