Chingrihata Merto expand Update: চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রোর পিলার বসানো বা গার্ডার লঞ্চিং করা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ, এই মোড়টি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যানবাহন চলাচল করে। দিনের বেলা তো বটেই, গভীর রাত পর্যন্ত এখানে যানজট লেগেই থাকে।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতা পূর্বের লাইফ-লাইন ইএম বাইপাস। আর এই বাইপাসের অন্যতম ব্যস্ত এবং যানজটপ্রবণ মোড় হল চিংড়িহাটা মোড়। নিউ গড়িয়া (কবি সুভাষ) থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত অরেঞ্জ লাইন মেট্রো প্রকল্পের কাজ দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় আটকে আছে। আইনি জট, ট্রাফিক পুলিসের অনুমতি এবং নানা টালবাহানায় চিংড়িহাটা সংলগ্ন যে কাজ থমকে ছিল, তা পুনরায় শুরু করার চূড়ান্ত অনুমতি মিলেছে। আগামী ১৫ মে থেকে চিংড়িহাটায় ট্রাফিক ব্লক করে কাজ শুরু করতে চলেছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)।
আরভিএনএল-এর কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়েছে তিন রাতের বিশেষ ‘উইন্ডো’, যেখানে মেট্রোর ভায়াডাক্ট বা পিলার সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আরও পড়ুন:
আরভিএনএল (RVNL) সূত্রে খবর, চিংড়িঘাটা এলাকায় মেট্রোর ৩৬৬ মিটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জোড়া লাগানো বাকি ছিল। মূলত পিলারের উপর গার্ডার বসিয়ে ট্র্যাক তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হবে এই পর্বে। এই সংযোগ তৈরি হয়ে গেলে বেলেঘাটা এবং গৌরকিশোর ঘোষ (সুকান্ত সেতু সংলগ্ন) মেট্রো স্টেশন দুটির মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
কাজ শুরু করার জন্য কলকাতা ট্রাফিক পুলিসের অনুমতি ইতিমধ্যেই মিলেছে। বর্ষা আসার আগেই অর্থাৎ জুন মাসের মাঝামাঝির মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রোর পিলার বসানো বা গার্ডার লঞ্চিং করা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ, এই মোড়টি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যানবাহন চলাচল করে। দিনের বেলা তো বটেই, গভীর রাত পর্যন্ত এখানে যানজট লেগেই থাকে।
ফলে কাজ শুরু করতে গেলে ট্রাফিক ডাইভারশন বা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অনিবার্য ছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে কলকাতা পুলিস এই কাজের জন্য অনুমতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
কাজের সময়সীমা ও পরিকল্পনা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে টানা তিন রাত এই ট্রাফিক ব্লক করা হবে।
সময়: রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এই কাজ চলবে।
পদ্ধতি: ভারী ক্রেন এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে ভায়াডাক্টে অর্থাত্ একটি পিলার থেকে আরেক পিলারের অংশগুলি জোড়া দেওয়া হবে।
সুরক্ষা: সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ওই নির্দিষ্ট সময়ে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার এবং তৎসংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ অথবা ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
কেন এই কাজ এত গুরুত্বপূর্ণ?
অরেঞ্জ লাইনের এই অংশটি অর্থাৎ সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত রুটের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু চিংড়িঘাটার এই ‘মিসিং লিঙ্ক’-এর কারণে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছিল।
আরও পড়ুন:
এই অংশের কাজ মিটে গেলেই কী সুবিধা হবে?
রুবি থেকে সেক্টর ফাইভ সংযোগ: খুব দ্রুত রুবি (হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশন) থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো চলাচলের পথ প্রশস্ত হবে।
যানজট মুক্তি: মেট্রো চালু হলে ইএম বাইপাসের ওপর ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে।
বিমানবন্দর সংযোগ: চূড়ান্ত পর্যায়ে নিউ গড়িয়া থেকে সরাসরি বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে মাত্র ৪৫-৫০ মিনিটে।
আরও পড়ুন:
পুলিসের বিশেষ সতর্কতা
কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'আমরা কাজের জন্য অনুমতি দিয়েছি কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ প্রকল্প।
তবে সাধারণ যাত্রীদের যাতে খুব বেশি ভোগান্তি না হয়, সেজন্য আমরা বিকল্প পথের ম্যাপ তৈরি করছি। সল্টলেক এবং নিউটাউনগামী গাড়িগুলোকে নিক্কো পার্ক বা উল্টোডাঙার দিক দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।'
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
আরভিএনএল-এর ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই তিন রাতের ব্লকে মূলত স্টিল গার্ডার স্থাপনের কাজ করা হবে। যেহেতু নিচ দিয়ে ব্যস্ত রাস্তা এবং পাশেই ফ্লাইওভার রয়েছে, তাই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই কাজ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
'চিংড়িহাটার এই জট কাটানো আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পুলিসের সহযোগিতায় এই কাজ সম্পন্ন হলে আমরা আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ট্র্যাকে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাবে।' — আরভিএনএল কর্মকর্তা।
মেট্রোর কাজে এই পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন নিত্যযাত্রীরা। গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর—এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বর্তমানে যে যন্ত্রণাদায়ক ট্রাফিক এবং সময়ের অপচয় হয়, মেট্রো চালু হলে তার অবসান ঘটবে।
আরও পড়ুন:
আপাতত তিন রাতের এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিয়ে বৃহত্তর উন্নয়নের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে তিলোত্তমা। কলকাতা পুলিস এবং রেল কর্তৃপক্ষের এই সমন্বয় শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
এখন অপেক্ষা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ‘নাইট ব্লক’-এর কাজ শেষ করে আরভিএনএল কতটা দ্রুত অরেঞ্জ লাইনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারে। কলকাতার পরিবহনের মানচিত্রে এই মেট্রো রুট যে গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আরও পড়ুন: