জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে ‘নাগরিকত্ব’ শব্দটির সংযোগ সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন ‘বাংলা একতা মঞ্চ’-এর সদস্যরা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম তন্ময় ঘোষ, সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এদিন নির্বাচন কমিশনে তাঁরা ডেপুটেশন জমা দেন। অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের উচিত সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষটির কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, যাতে কেউ ভয়ের পরিবেশে না থাকে।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন- Ranojoy Shyamoupti Wedding: ‘ভালো বন্ধু’ থেকে ‘জীবনসঙ্গী’, প্রেম দিবসেই সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন রণজয়-শ্যামৌপ্তি...
আতঙ্ক বনাম সচেতনতা, কী বললেন পরমব্রত? নির্বাচন কমিশনের দফতরে প্রতিনিধিদল জমা দেওয়ার পর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, "এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে নাগরিকত্ব কানেক্ট হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে কনফিউশন তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এই আতঙ্ক কাটাতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা যেন সমাজের নিচুতলার মানুষ অবধি পৌঁছয়, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।"
বাংলা একতা মঞ্চের গুরুতর কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে বারবার সময় চাইলেও কমিশনের তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। তাঁদের অভিযোগ, প্রান্তিক মানুষের অনিশ্চয়তা-দিনমজুর, পরিযায়ী শ্রমিক, ট্রান্সজেন্ডার এবং সংখ্যালঘুদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ভয় বাড়ছে। বিশিষ্টদের অবমাননা করা হচ্ছে। অধ্যাপক অমর্ত্য সেন এবং কবি জয় গোস্বামীর মতো শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের নামও যদি ‘তদন্ত’ বা ‘সন্দেহ’-এর তালিকায় থাকে, তবে তা সাধারণ মানুষের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়।
প্রতিনিধিদলটির মূল লক্ষ্য হল—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা। জয় গোস্বামী, অমর্ত্য সেনদের মতো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি সমাজের দুর্বলতম শ্রেণির নাগরিক অধিকার যাতে খর্ব না হয়, সেই বিষয়েই কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন পরমব্রত ও তাঁর সংগঠন।
আরও পড়ুন- Nipah Virus Alert: নিপা আতঙ্কে কাঁটা কাটোয়া! আক্রান্ত নার্সের বাড়ি খালি করে সিল করল স্বাস্থ্য দফতর, কারা কারা সংস্পর্শে তল্লাশি...
প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কি কোনও বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে ‘বাংলা একতা মঞ্চ’-এর হয়ে তাঁর সওয়াল এবং রাজ্য সরকারের হয়ে মুখ খোলা—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন জল্পনা উস্কে দিয়েছে। নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্টজনদের অধিকার রক্ষার আড়ালে সরকারের হয়ে পরমের এই সরব হওয়া কি তবে আসন্ন নির্বাচনে টিকিটের টিকিট নিশ্চিত করার প্রস্তুতি? টলিপাড়ার সঙ্গে তৃণমূল সরকারের সমীকরণ দীর্ঘদিনের। দেব, রাজ চক্রবর্তী থেকে সায়নী ঘোষ—অনেকেই এই পথে হেঁটেছেন। এবার কি সেই তালিকায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত হতে চলেছে? টিকিট পাওয়ার দৌড়ে কি অভিনেতা? টিকিট পাওয়ার এই লড়াইয়ে বা টিকে থাকার লড়াইয়ে পরমব্রতর গায়ে রাজনীতির রঙ লাগা এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। মঙ্গলবার বিকেলের এই পদক্ষেপে প্রশ্ন উঠছে—রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা কি পরমব্রতকে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামাতে চলেছে?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)