)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলার মসনদে এবার শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নিয়েই রীতিমতো অ্যাকশন মুডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ময়দানের একটি টেন্টে সেরে নিলেন প্রথম বৈঠক। নির্দেশ দিলেন, 'রাজ্যের মানুষের যেন কোনও সমস্যা না হয়। চলমান প্রকল্পগুলি যেন থমকে না যায়'।
বাংলায় এবার গেরুয়ারাজ। আজ, শনিবার ব্রিগেডে এ রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। সঙ্গে দিলীপ ঘোষ,অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনীয়া। ব্রিগেড থেকে সোজা জোড়াসাঁকোয় যান শুভেন্দু। এরপর ময়দানে পূর্ত দফতরের টেন্টে মুখ্য়মন্ত্রী হিসেবে প্রথম বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে হাজির ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিসের ডিজি, কলকাতার পুলিস কমিশনার ও একাধিক দফতরের সচিবরাও। সূত্রের খবর, আয়ুষ্মান ভারত-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি এবার রাজ্য়ে দ্রুত রূপায়ণ করতে চাইছে নতুন সরকার। সে বিষয়ে যেমন বৈঠকে আলোচনা হয়, তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গও ওঠে। প্রশাসন কীভাবে চলবে, তা নিয়ে একটি রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে।
এদিন ব্রিগেডে বাংলায় প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রীতিমাফিক মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল এন কে রবি। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া। তবে দফতর বন্টন হয়নি এখনও। ফলে খাতায়-কলমে সমস্ত দফতরের দায়িত্বেই আপাতত মুখ্য়মন্ত্রী।
এদিকে তৃণমূল জমানায় পয়লা বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই সিদ্ধান্ত এবার বদলাতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন,
আজকে যে আমরা একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে দাঁড়িয়ে আছি, নিজের নিজেদের কর্ম করছি, সবটাই কিন্তু ভারতভুক্তির জন্য। ১৯৪৭ সালে ২০ জুন যদি বঙ্গের এই প্রান্তর অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে ভারতের সঙ্গে যুক্ত না হত, যেটা সম্ভব হয়েছিল ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও ভারত সেবাশ্রম স ঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইতে'।
বছর তিনেক আগে এই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা নিয়ে নবান্ন-রাজভবন সংঘাত চরমে পৌঁছয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে ২০ জুন রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের বিরোধিতা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তত্কালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠিও দেন। যদিও রাজ্যের আপত্তি উড়িয়ে ২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হয় রাজভবনে। মাস দুয়েক পর রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের বিরোধিতায় এবার বিধানসভায় প্রস্তাব আনে সরকার। বস্তুত, ৭ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। সেই কমিটি সুপারিশে মেনেই পয়লা বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)