Kunal Ghosh: "বাংলার মা-বোনেদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বিজেপি!"মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ ও ঋজু দত্ত। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাস থেকে শুরু করে বিজেপির তথ্য চুরির চক্রান্ত— একাধিক অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জোয়ার রুখতে এবার কি সেনার ট্যাংক ভরসা বিজেপির?

অয়ন ঘোষাল: প্রথম দফার ভোটের আগে মেজাজ চড়ালো ঘাসফুল শিবির। সোমবার তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ আনলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও ঋজু দত্ত। তাঁদের অভিযোগ, বাংলার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতে 'দিল্লির জমিদাররা' তাঁদের 'লেঠেল বাহিনী' অর্থাৎ ইডি, সিবিআই এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে।
সাঁজোয়া গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
ভোটের মুখে রাস্তায় সেনার গাড়ি বা ট্যাংক নামানো নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "সীমান্তে এই সক্রিয়তা দেখালে পহেলগাঁও বা উরিতে হামলা হতো না। একজন হাওয়াই চটি পরা মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে সামলাতে গোটা বিজেপি সরকার, সব এজেন্সি আর এখন সেনার গাড়ি নামাতে হচ্ছে? এটা ফাজলামি ছাড়া আর কিছু নয়।" তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি যেখানে সংগঠনহীন, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য।
নারী সুরক্ষা ও বিজেপির 'আসল চেহারা'
সাংবাদিক সম্মেলনে ঋজু দত্ত বিজেপির বিরুদ্ধে নারী অবমাননার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ প্রলয় পালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, প্রলয় পাল নন্দীগ্রামের মহিলাদের কুরুচিকর প্রস্তাব এবং অশ্লীল ছবি পাঠাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামের এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও মহিলাকে অন্তঃসত্ত্বা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ঋজু বলেন, "নারীর সম্মানের কথা বলা বিজেপির আসল রূপ এটাই। যারা মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ায়, তাদের এরা সহ্য করতে পারে না।"
তথ্য সংগ্রহ ও জালিয়াতি নিয়ে সতর্কতা
বিজেপি বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে 'ফর্ম ফিলাপ' করিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, "সরকারি লোক ছাড়া কাউকে তথ্য দেবেন না। আপনাদের দেওয়া তথ্য ভুল হাতে গেলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবশ্রীর টাকা পেতে সমস্যা হতে পারে। জালিয়াতি রুখতে প্রয়োজনে সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র যাচাই করুন।"
এজেন্সি ও কমিশনের সক্রিয়তা
নুসরত জাহানকে ইডির তলব থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে ধরপাকড়— সবটাকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাখ্যা করেছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনেই এজেন্সিকে ময়দানে নামিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মোটরবাইক সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর আবেদন, বাইক আরোহীদের স্বার্থে সাধারণ মানুষ তৃণমূলকেই ভোট দেবেন।
শেষে রাকেশ সিং প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে কুণাল বলেন, "প্রি-পোল অশান্তি করবেন না, তাহলে পোস্ট-পোল কান্নাকাটি করতে হবে না। বাংলার মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই এই সব ঔদ্ধত্যের যোগ্য জবাব দেবেন।"
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)