)
প্রবীর চক্রবর্তী: ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূলের পক্ষে বিরাট বড় বিপর্যয়। আর দল হারতেই দলের নেতাদের নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান একের পর এক নেতা। কেউ বলছেন দুর্নীতির কথা, কেউ সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। এর জেরেই দলের ৫ মুখপাত্রকে শো-কজ করেছিল তৃণমূলের শৃঙ্খলাভঙ্গ কমিটি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। ওই ৫ জনের মধ্যে এবার ৩ জনকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস।
কারা রয়েছেন সেই তালিকায়? তৃণমূল সূত্রে খবর, কোহিনূর মজুমদার, ঋজু দত্ত, ও কার্তিক ঘোষকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। যে ৫ জনকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল তারা হলেন, ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনূর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ ও কার্তিক ঘোষ। আর যাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে তাদের তালিকায় নেই পাপিয়া ঘোষ ও কার্তিক ঘোষ। এদের ভাগ্যে কী রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ফল প্রকাশের দলের নীচুতলার মন ও দলের রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন ওইসব মুখপাত্ররা। এনিয়ে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। শুধু তাই নয়, তাঁরা দাবি করেছিলেন গত ১৫ বছরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তা প্রসমিত করার কোনও চেষ্টাই হয়নি। বরং দলের একাংশের নেতাদের ঔদ্ধত্য দলের পরাজয়ে সাহায্য করেছে।
এদিকে, দল শোকজ করলেও দমে যাননি ৫ মুখপাত্র। বরং পাল্টা তাঁরা বলেন, হাজার হাজার কর্মীর মনের কথা তাঁরা বলেছেন। নীচুতলার কর্মীরা যা ভাবছেন সেটাই তারা বলেছেন।
দলের হারতেই একের পর এক নেতা মুখ খুলতে শুরু করেন। বীরভূমের অনুব্রত ঘনিষ্ঠ নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের পতনের কারণ আইপ্যাক। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর ধরে রাজনীতি করার পর আইপ্যাক আমাদের নির্দেশ দিচ্ছে। যারা বাংলা বোঝে না, বাংলার সংস্কৃতি বোঝে না, তারা বোঝাচ্ছে কীভাবে ভোট করতে হবে। আর তারই ফল এইবারের বিধানসভার নির্বাচন।
ইংরেজবাজার পুরসভার প্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ও মালদহ পুরসভার প্রাক্তন পুরপিতা কার্তিক ঘোষ সোজা নিশানা করে দলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁরা বলেন, বহু বর্তমান বিধায়ককে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি, পুরাতন কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, মিষ্টির প্যাকেট’ কিংবা ‘খাম’ এর বিনিময়ে অনেককে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এক ব্যক্তি এক পদ বা নব জোয়ার কর্মসূচির মাধ্যমে যে নতুন নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, পুরনো কর্মীরা তাকে যে ভালো চোখে দেখছেন না। দলের বিপর্যয়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও 'আইপ্যাক'-এর ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, দলের পুরনো ও অভিজ্ লোকদের বসিয়ে ভাড়াটে লোকদের দিয়ে দল চলানোর মাসুল দিতে হয়েছে ভোটে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)