)
অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্য়ায় ও রাজীব চক্রবর্তী: এসআইআর জটিলতায় পিছিয়ে যাবে বাংলা বিধানসভা ভোট? উঠছে প্রশ্ন। কারণ, কমিশন সূত্রে সামনে এসেছে বড় ব্রেকিং নিউজ। আগামী ১ এবং ২ মার্চ নির্বাচন কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের আসার কথা ছিল রাজ্যে। সেইসঙ্গে জরুরি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীকালে এই বৈঠক হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, রাজ্যে বর্তমান এসআইআর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত।
সুপ্রিম নির্দেশর পর কমিশনের পদক্ষেপ
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বাংলার এসআইআর-এর বাকি কাজ শেষ করতে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। অন্য রাজ্য থেকে বিচারক আনার কথাও বলেছে। ৮০ লক্ষের বেশি কাজ এখনও বাকি রয়েছে। প্রতিদিন ২৫০টি করে শুনানি নিষ্পত্তি করলেও, প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে। এমনটাই মত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম নির্দেশের পরই বুধবার নবনিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের দুটি ভাগে ভাগ করল নির্বাচন কমিশন। প্রথম ভাগের জুডিশিয়াল অফিসারদের সকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ট্রেনিং দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ভাগের জুডিশিয়াল অফিসারদের দুপুর দেড়টা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই ট্রেনিং দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, এই দুটি ট্রেনিং সেশনে নবনিযুক্ত বিচারকদের এসআইআর নিয়ে সকল প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেয় কমিশন।
কবে ভোটের দিন ঘোষণা?
এখন ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মার্চের ১,২ তারিখে রাজ্যে আসার কথা ছিল কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের। তারপর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে রাজ্যে আসার কথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। তাঁরা ফিরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২৮ তারিখে ফাইনাল ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও চলবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ, নাম অন্তর্ভুক্তির কাজ। এই পরিস্থিতিতেই পিছাচ্ছে, মার্চের ১ ও ২ তারিখে কমিশনের প্রতিনিধি দলের রাজ্যে আসা। যারপরই উঠছে প্রশ্ন।
দিন ঘোষণা হলেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক
এদিকে কমিশন সূত্রে আরও খবর, এবার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে পৌঁছে যেতে পারেন একাধিক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক। ভোটের সূচি প্রকাশের দিন থেকেই যাতে প্রশাসনিক তৎপরতার উপর কড়া নজরদারি থাকে, সে দিকেই জোর দিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য অন্তত একজন করে পর্যবেক্ষক মোতায়েনের ভাবনা রয়েছে। ফলে মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রক্রিয়াই চলবে তাঁদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে।
কমিশনের কড়া নজরদারি
অতীতে মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ঠিক আগের মুহূর্তে পর্যবেক্ষক পাঠানো হলেও, এ বার শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ শক্ত হাতে রাখতে চাইছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরি— এই পাঁচ রাজ্যেই একই নীতি কার্যকর হতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাছাই করা ১৪৪ জন আইএএস, আইপিএস, আইআরএস এবং কেন্দ্রীয় পরিষেবার আধিকারিককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)