)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তিনি দময়ন্তী সেন। যাঁর তুখোড় বুদ্ধিতেই ব্রেক থ্রু হয়েছিল পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে। ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ড, যাকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছিলেন, 'সাজানো ঘটনা', কিন্তু তদন্তকারী অফিসার দময়ন্তী সেন বলেছিলেন, 'না, কিছু তো একটা হয়েছে'। যে কথা বার বার ফিরে এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। রেস্তরাঁর ভিতরে মোবাইলের লোকেশন টাওয়ার আর বাইরে মোবাইলের লোকেশন টাওয়ারের সূত্র ধরেই যে ঘৃণ্য অপরাধের পর্দাফাঁস করেছিলেন অফিসার দময়ন্তী সেন। তবে তারপর অবশ্য তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকারের রোষানলে পড়তে হয়! তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর পদ থেকে, কম লঘু পদে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই দময়ন্তী সেন ফিরছেন। আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে এবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার।
পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড ও দময়ন্তী সেন
১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন। ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার তদন্তের সময় থেকেই বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসেন। সেই সময় তিনি কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (ক্রাইম) পদে কর্মরত ছিলেন। এই পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা অফিসারও ছিলেন দময়ন্তী সেন। ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকাণ্ড ঘটে। পার্ক স্ট্রিটে একটি নাইটক্লাব থেকে বেরোনোর পরই নির্যাতিতাকে জোর করে গাড়িতে তুলে চলন্ত গাড়ির ভিতর গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন পড়ে যায়। ২০১১-তে ক্ষমতায় এসে পালাবদলের সরকার গঠনের পর ২০১২-তেই এই ঘটনা মোটেই সুখকর ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জন্য।
জনরোষ যখন বাড়ছে, তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডকে উল্লেখ করেন, “সাজানো ঘটনা” বলে। এমনকি এও দাবি করেন যে, তাঁর সদ্য গঠিত তৃণমূল সরকারকে বদনাম করতেই চক্রান্ত করে এই অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু, তদন্তে অবিচল, অটল থাকেন জয়েন্ট সিপি ক্রাইম দময়ন্তী সেন। পর্দাফাঁস করেন সেই ঘৃণ্য অপরাধের। দময়ন্তী সেনের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল দ্রুত অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে। কিন্তু পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের ব্রেক থ্রুয়ের পরই, অপরাধীদের জালে তোলার পরই, বদলির অর্ডার আসে আইপিএস দময়ন্তী সেনের জন্য। তাঁকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়। রাজনৈতিক সমালোচকেদর মতে, আসলে তা ছিল দময়ন্তীর 'শাস্তি'! 'শাস্তি'র বদলি!
দময়ন্তীর 'শাস্তি' ও প্রত্যাবর্তন!
পুলিশ প্রশাসনে দক্ষ ও শিক্ষিত অফিসার হিসেবে সুনাম থাকা সত্ত্বেও, তৃণমূল সরকারের আমলে দময়ন্তী সেনকে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। পরে অবশ্য তিনি আবার কলকাতা পুলিসের স্পেশাল কমিশনার হন। তবে আগের সরকারের আমলে খুব কম ক্ষেত্রেই তাঁকে হাই-প্রোফাইল তদন্তে দেখা গিয়েছে। তবে এবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকারে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকারী কমিটির সচিব হয়ে ফিরছেন তিনি। রাজ্যে মহিলাদের উপর হওয়া বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। সেই সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের জন্য একটি আলাদা কমিশন গঠন করা হয়েছে। যে কমিশনের সচিব পদে ফিরছেন IPS দময়ন্তী সেন। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ, সবার কাছেই দময়ন্তী সেনের এই 'ফেরা'প্রশাসনিক জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন! তেমনটাই মনে করছেন সবাই।
দক্ষ, কঠোর, নিরপেক্ষ দময়ন্তী একজনই...
প্রসঙ্গত, ২০১২-র পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের পর ২০১৩-তে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে এক কিশোরীকেও ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই মামলাতেও আদালতের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নিয়েছিলেন সিআইডির তৎকালীন ডিআইজি দময়ন্তী সেন। এরপর ২০২২ সালেও বেশ কয়েকটি নির্যাতনের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট সেইসব মামলার তদন্তভার দময়ন্তী সেনের হাতে দেন। যার মধ্যে নদিয়া হাঁসখালি, দেগঙ্গা, ইংরেজবাজার, নামখানার মতো ঘটনা রয়েছে। বার বারই দময়ন্তী সেনের দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে পুলিস মহলে, কিন্তু দীর্ঘ ৩ দশকের কর্মজীবনে বার বার তাঁকে প্রশাসনিক চাপের মুখেও পড়তে হয়েছে। বদলি হয়েছে। কিন্তু এত সব কিছুর পরেও একজন কঠোর ও নিরপেক্ষ অফিসার হিসেবে তাঁর পরিচিতি সুবিদিত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)