জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সেদিন লোকনাথ বাবা (Lokenath Brahmachari) চন্দ্রনাথ পাহাড়-সংলগ্ন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাত্রাকালে হঠাৎই দেখেন জঙ্গলে আগুন (wildfire in Chandranath hills) লেগে গিয়েছে। তিনি লক্ষ করলেন সেই জঙ্গলে একটি গাছের তলায় এক জটাজুটধারী সন্ন্যাসী ধ্যানমগ্ন আছেন। লোকনাথবাবা যোগবলে তাঁকে নিরাপদে বের করে আনলেন। সেই সন্ন্যাসী ছিলেন পরবর্তীকালের বিখ্যাত বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী (Vijay Krishna Goswami)। বহু পরে একবার বাদরীর আশ্রমে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী লোকনাথবাবার কাছে গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে বাবা লোকনাথ প্রশ্ন করেন, কে তোমাকে সেদিন জঙ্গলের আগুন থেকে রক্ষা করেছিল? হঠাৎই যেন ঘোর ভাঙে বিজয়কৃষ্ণের। তিনি চিনতে পারেন লোকনাথবাবাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পায়ে পড়ে যান।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন: Sun Ketu Yukta Yoga: রবি-রাহু যোগে জন্মাষ্টমীর পরেই ঘোর অশুভ! আসছে কঠিন সময়! জেনে নিন, কোন কোন রাশিকে থাকতে হবে বেশি সতর্ক...
জন্মাষ্টমীতেই জন্ম
এহেন লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব হয়েছিল জন্মাষ্টমীতে। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় লোকনাথবাবার জন্মতিথি। এবছর তিথিটি পড়েছিল ১৬ অগাস্ট। ভক্তেরা এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করেন। এদিন তাঁরা বাবা লোকনাথের পূজা-অর্চনা করেন। সেই হিসেবে জন্মাষ্টমী শুধু শ্রীকৃষ্ণেরই জন্মতিথি নয়। এদিন এ ধরায় এসেছিলেন লোকনাথ ব্রহ্মচারীও। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম হয়েছিল তাঁর। লোকনাথদেবের বাবা ছিলেন রামনারায়ণ ঘোষাল, মা কমলা দেবী। কথিত, লোকনাথ বাবা নাকি স্বয়ং মহাদেবের অবতার।
নিয়মহীন নিষ্ঠাভরা
লোকনাথআরাধনার বিশেষ কোনও নিয়ম নেই। নিষ্ঠাযোগে পুজো করলেই বাবা তুষ্ট হন। দিতে হয় যৎসামান্য ভোগ। তবে তারই মধ্যে কিছু কিছু বিষয় মেনে চলা হয়। তবে জন্মাষ্টমীর পুজোর তিথি থাকাকালীনই লোকনাথের পুজো করা উচিত। লোকনাথবাবার পুজো সূর্যের আলো থাকাকালীন সময়ে করতে পারলে ভাল হয়। লোকনাথ বাবা মিছরি খেতে খুব ভালবাসেন বলা হয়। তাই লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ভোগে মিছরি অবশ্যই রাখা হয়। মিছরি ছাড়া অমৃতিও লোকনাথ ব্রহ্মচারীকে ভোগ হিসেবে দিতে পারেন। অমৃতিও তাঁর প্রিয় বলে মনে করা হয়। যে কোনও সাদা রঙের মিষ্টি, যেমন-- চিনির পায়েস, সন্দেশ প্রভৃতিও দেওয়া হয় তাঁকে।

যেহেতু সাদা রং লোকনাথ ব্রহ্মচারী খুব পছন্দ করেন, তাই যে কোনও সাদা ফুলে তাঁর পুজো করা যেতে পারে। লোকনাথ বাবার চরণে নীল শাপলা ফুল দিতে পারলে খুব ভাল হয় বলে মনে করা হয়। লোকনাথ বাবা মহাদেবের অবতার। তাই তাঁকে বেলপাতা নিবেদন বাঞ্ছনীয়। যে কোনও প্রকার মরসুমি ফল তাঁকে ভোগ হিসাবে দিতে পারেন। পুজোর ভোগ হিসাবে ভাত, ডাল, চচ্চড়ি বা খিচুড়ি, পাঁচমিশালি তরকারি দিতে পারলে ভাল হয়। পুজোর পর প্রসাদ সবার আগে বাড়ির বাচ্চাদের দিতে হবে। তার পর বড়রা গ্রহণ করবেন।
মন্ত্র
প্রতি সোমবার করে মহাদেবের পুজোর সঙ্গে সঙ্গে বাবা লোকনাথেরও পুজো করতে হয়। 'জয় বাবা লোকনাথ, জয় ব্রহ্ম লোকনাথ, জয় শিব লোকনাথ, জয় গুরু লোকনাথ।'-- এই মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়।
লোকনাথপুজোর উপকারিতা
লোকনাথ পুজোর উপকারিতা কী? বলা হয়-- যেসব ব্যক্তিদের কোষ্ঠীতে দারিদ্র্যযোগ রয়েছে, তাঁরা অবশ্যই লোকনাথ বাবার পুজো করুন। এতে অর্থসমস্যা দূর হয়। কোষ্ঠীতে থাকা দারিদ্র্য-সংক্রান্ত দোষও লোপ হয়। জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা আসে, সমৃদ্ধি আসে।
আরও পড়ুন: Premanand Maharaj on Magic: টিস্যু পেপার থেকে ৫০০-র নোট, ঝুড়ি থেকে ফুলের মালা! সকলকে চমকে দেওয়া ম্যাজিশিয়ানকে শেষে চমকে দিলেন প্রেমানন্দজিই...
লোকনাথবাবার বাণী
"রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও, আমিই রক্ষা করিব।"
প্রয়াণ
বাংলা ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ৩ জুন, মঙ্গলবার লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)