)
জি ২৪ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কথায় আছে 'যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে'। তবে এই কথা মাথায় রাখতে গিয়ে, মহিলারা নিজের যত্ন নিতেই ভুলে গেছেন। কর্মস্থল হোক কিংবা সংসার, কাজের চাপে জর্জরিত প্রত্যেক মহিলা। না বুঝেই অবহেলা করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। সামাজিক প্রত্যাশা, সংসারের দায়িত্বে নিজের কথা ভাবার সময় রাখেন না তাঁরা। এতেই বাড়ে সমস্যা। মানসিক চাপের প্রাথমিক উপসর্গ হল- অতিরিক্ত ক্লান্তি, অনিয়মিত মাসিক,মেনপস,পোসপার্টম, বিভিন্ন হরমোনজনিত সমস্যা। এছাড়া রয়েছেই কর্মস্থল এবং সংসারের চাপ।
মহিলাদের সবকিছু মুখ বুজে সহ্য় করার অভ্য়স গোড়া থেকেই। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন চাপের কারণে মহিলারা রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলিকে এড়িয়ে যান। সময়ের অভাবে প্রাথমিক পর্যায় রোগ ধরা পড়ছে না। ডা. অরিন্দম ব্যানার্জী, বিশ্ব অস্থি-চিকিত্সা কনসার্ন ইন্টারন্য়াশানালের প্রেসিডেন্টের মতে মহিলাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা। এই রোগ হাড়কে নরম এবং ভঙ্গুর করে দেয়। আগে এই রোগ বয়স্ক মহিলাদের দেখা যেত। এর কারণ ছিল অপুষ্টি, একাধিক গর্ভধারণ। এর ফলে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিত এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকিও বাড়তো।
এখন সেই সমস্যা কম হলেও, রোগের বাসা বেশি বাঁধে মহিলাদের শরীরে। এখনকার দিনে ভারতের বহু মেয়েই ব্যায়াম করেন না। টিউশন,স্কুল,কাজ এবং সংসারের চাপে নিজের দিকে নজড় দেন না। শৈশব এবং কৈশরেই হাড় ও মাংসপেশিকে গড়ে ওঠে। এই সময় খাদ্যাভাসে এবং শরীরচর্চায় নজড় দেওয়া উচিত। অন্যথা সারাজীবন ভুগতে হতে পারে ডায়াবেটিস, অস্টিওপোরোসিস এবং বিভিন্ন হৃদরোগের সমস্যায়। রোগ হওয়ার আগেই সচেতন হওয়া উচিত, ছোট ছোট উপসর্গকে নজড় দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞ নৃপেন্দ্র গুহ জানিয়েছেন,"মহিলাদের এমন অনেক উপসর্গ আছে যা ভুলেও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে অকারণে ওজন বাড়া বা কমে যাওয়া, অনিয়মিত বা অতিরিক্ত মাসিক, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যাথা, ত্বকের পরিবর্তন, স্তনের কোন পরিবর্তন। " নিজের শরীরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া শুরু করতে হবে প্রত্যেক মহিলাকে।এছাড়া উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।