)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সারা পৃথিবীতেই কাজের দুনিয়া নিয়ে নানা বড় বড় বদল ঘটছে। ওয়ার্কিং আওয়ার্স, ওয়ার্কিং ডে, রিসেশন, লিভ ইত্যাদি নিয়ে নানা ভাবে ভাবছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই প্রবাহেই এবার বদল আসতে চলেছে মহারাষ্ট্রেও (Maharashtra)। মহারাষ্ট্র সরকার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে যেখানে বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মীদের (Pvt Sector in Maharashtra) দৈনিক কাজের সময় ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১০ ঘণ্টা (10 Hours Working Hours For Pvt Sector) করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এই প্রস্তাবের ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
কর্ম-যোগ
কী বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে? সংক্ষেপে বিষয়টি এরকম:
১) দৈনিক কাজের সময়বৃদ্ধি: কর্মীদের দৈনিক কাজের সময় ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১০ ঘণ্টা করা হতে পারে
২) বিরতি: টানা ৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে আধ ঘণ্টার বিরতি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে
৩) ওভারটাইম: তিন মাসে ওভারটাইমের সীমা ১২৫ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১৪৪ ঘণ্টা করার প্রস্তাব
৪) মহিলা কর্মীদের শিফট: মহিলা কর্মীদের রাতের শিফটে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে
৫) আইনি আওতা: এই আইনটি বর্তমানে ১০ জন বা তার বেশি কর্মী আছে, এমন প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য; তবে, নতুন প্রস্তাবে এটি ২০ জন বা তার বেশি কর্মী আছে এমন প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে
ক্ষমতায়ন এবং
মহারাষ্ট্র সরকার বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের দৈনিক কাজের সময় বাড়ানোর জন্য এই প্রস্তাব দিয়েছে। এই পরিবর্তনের জন্য Maharashtra Shops and Establishments (Regulation of Employment and Conditions of Service) Act, 2017 আইনে সংশোধন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এখন বর্তমানে টানা ৫ ঘণ্টা কাজ করার পরে বিরতি নেওয়ার নিয়ম আছে। এটা বদলে ৬ ঘণ্টা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবে ৬ ঘণ্টা কাজ করার পরে কমপক্ষে ৩০ মিনিট বিরতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মহিলা কর্মীদের জন্যও আসছে পরিবর্তন। এই আইনে মহিলা কর্মীদের রাতের শিফটে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের যুক্তি ও উদ্দেশ্য
শ্রমমন্ত্রী আকাশ ফুণ্ডকর জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য মহারাষ্ট্রের শ্রম আইনকে আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে একে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাটাই লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানেই কর্মীরা ৯ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন, কিন্তু এর জন্য সঠিক ক্ষতিপূরণ পান না। সরকার এই ধরনের কাজকে আইনি কাঠামোতে এনে কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা ও ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাইছে।
আরও পড়ুন:
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
প্রস্তাবটি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে আলোচনার জন্য পেশ করা হলেও, বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র সমালোচনা হয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিরোধী দলগুলি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছে, এটি কর্মীদের শোষণ করবে এবং তাদের অধিকার লঙ্ঘন করবে। সমালোচকদের মতে, দীর্ঘ সময় কাজ করলে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে উৎপাদনশীলতা কমাবে। কিছু শিল্পপতি ও বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করেন, উৎপাদনশীলতা দীর্ঘ কাজের সময়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং কর্মীদের দক্ষতা এবং কার্যকারিতার উপর নির্ভরশীল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)