Earthquake in northeast: অসমের রাজধানী গুয়াহাটি ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কম্পনের তীব্রতা ছিল যথেষ্ট বেশি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ খাট, আলমারি ও ঘরের আসবাবপত্র প্রবলভাবে দুলতে শুরু করায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এমনিতেই শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত মণিপুর, তার ওপর প্রকৃতির রুদ্ররোষ। মঙ্গলবার ভোরে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মণিপুর, অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫.২।
মণিপুরের কামজং জেলা এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল হলেও এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ড, মেঘালয় এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও। ভোরবেলা যখন মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন, তখনই এই আকস্মিক দুর্যোগে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের উৎস
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মণিপুরের কামজং (২৪.৭০৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.৪১৫ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎসস্থল। ভূতাত্ত্বিক ভাষায় একে 'মাঝারি গভীরতার' কম্পন বলা হয়। যদিও মাটির গভীরে উৎস থাকলে উপরিভাগে তীব্রতা কিছুটা কম হওয়ার কথা, কিন্তু ৫.২ মাত্রা হওয়ায় কম্পনটি বেশ জোরালো ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এই ভূমিকম্পের রেশ ধরে ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে বাংলাদেশের ঢাকা ও সিলেটেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।
আতঙ্কিত গুয়াহাটি
অসমের রাজধানী গুয়াহাটি ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কম্পনের তীব্রতা ছিল যথেষ্ট বেশি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ খাট, আলমারি ও ঘরের আসবাবপত্র প্রবলভাবে দুলতে শুরু করায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে বহুতল আবাসনগুলোতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। শুধু অসম নয়, মেঘালয়ের শিলং এবং নাগাল্যান্ডের কহিমা থেকেও মানুষের আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছাড়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা
এখনও পর্যন্ত মণিপুর বা অসমের কোনো জেলা থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বা প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবে কামজং জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে কোনো ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF ও SDRF) পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফটারশক বা পরবর্তী ছোট কম্পনের সম্ভাবনা থাকায় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থান
উত্তর-পূর্ব ভারত ঐতিহাসিকভাবেই 'সিসমিক জোন-৫'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। হিমালয় এবং ভারত-মায়ানমার টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে অস্থিরতা লেগেই থাকে। উল্লেখ্য যে, গত ১২ এপ্রিলও সিলেট-অসম সীমান্তে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। এমনকি এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই জাপানে ৭.৭ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। যদিও জাপানের ঘটনার সাথে এর সরাসরি ভৌগোলিক যোগ নেই, তবে বিশ্বজুড়ে এই ভূ-তাত্ত্বিক অস্থিরতা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে।
মঙ্গলবারের এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল যে, উত্তর-পূর্ব ভারত কতটা প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও এ যাত্রায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত সরকারি মহড়া (Mock Drill) জরুরি। প্রশাসন বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)