Ahmedabad Plane Crash: গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ামাত্রই অনতিদূরেই ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট। ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে কী কারণে ভেঙে পড়ে ওই বিমান? তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। এবার রিপোর্টে উঠে এল প্রতি মুহূর্তের বিশ্লেষণ। উঠে এল ককপিটে দুই পাইলটের গোপন কথাও।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট, যা গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ামাত্রই অনতিদূরেই ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়ে (Ahmedabad Plane Crash)। সম্প্রতি ককপিট অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (Wall Street Journal) জানিয়েছে, বিমানের ক্যাপ্টেন হয়তো টেকঅফের কিছু সেকেন্ড পরই ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেন।
তবে এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলট (Federation of Indian Pilots)। সংগঠনের সভাপতি সি এস রণধাওয়া বলেন, “এটি পাইলটকে দোষারোপ করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা। সম্প্রতি প্রকাশিত এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (Aircraft Accident Investigation Bureau- AAIB)-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোথাও পাইলট ত্রুটির কথা বলা হয়নি।”
AAIB-এর সেকেন্ড বাই সেকেন্ড টাইমলাইন বিশ্লেষণ:
সকাল ১১:১৭: বিমানটি দিল্লি থেকে আহমেদাবাদে পৌঁছায়, ফ্লাইট নম্বর AI423।
দুপুর ১:১৮:৩৮: বে ৩৪ থেকে বিমানটি ছাড়ে।
দুপুর ১:২৫:১৫ : ট্যাক্সি ক্লিয়ারেন্স চেয়ে অনুমোদন পায়, এরপর রানওয়ে ২৩-এ পৌঁছে টেকঅফের জন্য প্রস্তুত হয়।
দুপুর ১:৩৭:৩৩ : বিমানটিকে টেক অফের অনুমতি দেওয়া হয়।
দুপুর ১:৩৭:৩৭ : বিমানটি রানওয়ে ধরে চলতে শুরু করে।
দুপুর ১:৩৮:৩৯ : বিমানটি টেক অফ করে। এ সময় সেন্সর "এয়ার মোড"-এ চলে যায়, অর্থাৎ এটি আকাশে উঠে গেছে।
দুপুর ১:৩৮:৪২ : সর্বোচ্চ গতি ১৮০ নটসে পৌঁছানোর পর, ইঞ্জিন ওয়ান ও ইঞ্জিন টু-এর ফুয়েল কটঅফ সুইচ রান থেকে কাট অফে চলে যায়, একে অপরের মধ্যে মাত্র ১ সেকেন্ড ব্যবধানে।
ককপিট অডিও রেকর্ডিং থেকে উদ্ধৃতি:
একজন পাইলট প্রশ্ন করেন – “তুমি কেন ফুয়েল কাট করেছ?”
উত্তরে অন্য পাইলট বলেন – “আমি কিছু করিনি।”
দুপুর ১:৩৮:৪৭ : দুই ইঞ্জিনের স্পিড মিনিমাম আইডল লেভেলের নিচে নেমে যায়। Ram Air Turbine (RAT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয় এবং হাইড্রলিক পাওয়ার সরবরাহ করে।
দুপুর ১:৩৮:৫২ : ইঞ্জিন ওয়ান ফুয়েল সুইচ আবার রানে নেওয়া হয়।
দুপুর ১:৩৮:৫৬: ইঞ্জিন ২ ফুয়েল সুইচও রান অবস্থায় ফেরে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অবস্থায় FADEC সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিন রিলাইট শুরু করে। ইঞ্জিন ওয়ান আংশিক পুনরুদ্ধার করে, কিন্তু ইঞ্জিন ২ ঠিকভাবে গতি ফিরে পায়নি।
দুপুর ১:৩৯:০৫: ককপিট থেকে জরুরি বার্তা: “MAYDAY MAYDAY MAYDAY”।
দুপুর ১:৩৯:১১: ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডিং থেমে যায়।
দুপুর ১:৪৪:৪৪ : রেসকিউ ও ফায়ার সার্ভিস বিমানবন্দর ছাড়ে।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
WSJ-এর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে FIP বলেছে, “প্রমাণ ছাড়া একজন পাইলটের ঘাড়ে দোষ চাপানো অনৈতিক ও বিপজ্জনক। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের মন্তব্য আত্মবিশ্বাস ও বিচার প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” AAIB-এর তদন্ত এখনও চলছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হলে আরও পরিষ্কার তথ্য জানা যাবে। তবে এই দুর্ঘটনা ঘিরে পাইলট, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং যন্ত্রাংশের সাড়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)