President of All India Agarwal Sammelan: মন্দিরে মূর্তি স্থাপন এবং রুপোর অলঙ্করণের নাম করে সারা দেশ থেকে রুপোও সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন প্রান্তের দাতারা ৩ থেকে ৫ কেজি করে রুপো তুলে দিয়েছিলেন গোপাল শরণ গর্গের হাতে।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সংগঠনের নামে চাঁদা নিয়ে হাওয়ালায় টাকা পাচার, ১৯৭ কেজি রুপো উধাও। এ বার আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিযোগকারী।
সম্প্রদায়ের সেবার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ। মন্দির নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে দেশজুড়ে ভক্তদের কাছ থেকে রুপোর দান সংগ্রহ, তার পর সেই রুপো বেচে হাওয়ালায় টাকা ওড়ানো। অল ইন্ডিয়া আগরওয়াল সম্মেলনের [All India Agarwal Sammelan] সভাপতি গোপাল শরণ গর্গের [Gopal Sharan Garg] বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।
হরিয়ানাভিত্তিক এই সংগঠনের সঙ্গে ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, অসম, বাংলা, পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী ও আগরওয়াল সম্প্রদায়ের মানুষ যুক্ত।
অভিযোগ কে করলেন?
সংগঠনের আজীবন সদস্য সত্যনারায়ণ মিত্তাল [Satyanarayan Mittal] এই গুরুতর অভিযোগগুলি তুলেছেন। রায়পুরের বাসিন্দা সত্যনারায়ণ অতীতে সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। একাধিক নথি হাতে নিয়ে তিনি দাবি করেছেন, গোপাল শরণ গর্গ সম্প্রদায়ের স্বার্থ নয়, নিজের পকেট ভরাতেই ব্যস্ত ছিলেন।
টাকা গেল কোথায়?
অগ্রোহায় [Agroha] মন্দির নির্মাণ ও তীর্থযাত্রার নাম করে সারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। অভিযোগ, একজন সদস্য পাঁচ থেকে ১০-১১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। রসিদ দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই টাকা সংগঠনের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে কখনও জমা পড়েনি। বদলে সেই অর্থ পাচার হয়েছে হাওয়ালার [hawala] মাধ্যমে। শুধু অসম থেকেই একবারে ৭৫ লক্ষ টাকা হাওয়ালায় পাঠানো হয়েছে বলে সত্যনারায়ণের দাবি।
রুপোর হদিস নেই
মন্দিরে মূর্তি স্থাপন এবং রুপোর অলঙ্করণের নাম করে সারা দেশ থেকে রুপোও সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন প্রান্তের দাতারা ৩ থেকে ৫ কেজি করে রুপো তুলে দিয়েছিলেন গোপাল শরণ গর্গের হাতে। রসিদ অনুযায়ী মোট প্রায় ১৯৭ কেজি রুপো সংগ্রহ হয়েছিল। সেই রুপোও সংগঠনের হিসেবে নেই। অভিযোগ, রুপো বিক্রি করে সেই টাকাও হাওয়ালায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পদ আঁকড়ে থাকতে নিয়মও বদলে ফেললেন?
শুধু আর্থিক অনিয়মেই থামেননি গোপাল শরণ। অভিযোগ, বেআইনি বৈঠক ডেকে নিজের মেয়াদ বাড়িয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন নিজের আত্মীয়দের। সংগঠনের নিয়মকানুনও নিজের সুবিধামতো বদলে নিয়েছেন। এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ পদাধিকারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে একটি ভুয়ো নির্বাচনও ঘোষণা করেছেন।
২০২৪ সালে সত্যনারায়ণ বেশ কয়েকটি বিষয়ে গর্গের কাছে স্পষ্টীকরণ চেয়েছিলেন, বারবার মনে করিয়েও দিয়েছিলেন। কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বার আদালতে?
সত্যনারায়ণ মিত্তাল জানিয়েছেন, এই বছরই জুলাই বা আগস্ট মাসে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর দাবি, তদন্ত হলে পুরো সত্য সামনে আসবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)