Andhra Pradesh drowning incident: কিন্তু জলের প্রবল তোড় এবং পাথুরে পিচ্ছিল খাদের কারণে কেউই তীরে ফিরে আসতে পারেনি। বাকি বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে, কিন্তু ততক্ষণে তিনজনেই জলের অতলে তলিয়ে যায়।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল বিষাদে। বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে গিয়ে সেলফি তোলার নেশায় প্রাণ হারাল তিন কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে
শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার পালকোন্ডা মণ্ডলের মুলাগুমি (Mulagummi) জলপ্রপাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে; তারা হলো পুনিতম্ম (১৬), কবিতা (১৬) এবং লাবণ্য (১৬)। তারা সকলেই স্থানীয় একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।

ঘটনার বিবরণ
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে সাতজন কিশোরী মুলাগুমি জলপ্রপাত এলাকায় পিকনিক করতে গিয়েছিল। জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় তারা পাহাড়ি পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জলপ্রপাতের খুব কাছে গিয়ে ছবি তোলার সময় হঠাত্ই একজনের পা পিছলে যায় এবং সে গভীর জলে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে অন্য দুই বন্ধুও জলে ঝাঁপ দেয়।
কিন্তু জলের প্রবল তোড় এবং পাথুরে পিচ্ছিল খাদের কারণে কেউই তীরে ফিরে আসতে পারেনি। বাকি বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে, কিন্তু ততক্ষণে তিনজনেই জলের অতলে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পালকোন্ডা পুলিস এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) সদস্যরা। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহায়তায় কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানের পর তিন কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিস দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আর্তনাদে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
বিপজ্জনক হয়ে উঠছে ‘সেলফি ম্যানিয়া’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জলপ্রপাত, পাহাড়ের চূড়া বা চলন্ত ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে, সামান্য অসতর্কতা কীভাবে একটি সাজানো জীবন কেড়ে নিতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পর্যটকরা প্রায়ই বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ করছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সতর্কতা
শ্রীকাকুলাম জেলা পুলিস জানিয়েছে, মুলাগুমি জলপ্রপাত এলাকাটি অত্যন্ত মনোরম হলেও বর্ষা বা পরবর্তী সময়ে জলপ্রপাতের পাথরগুলো শ্যাওলা জমে অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে থাকে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে সতর্কবার্তা সম্বলিত বোর্ড লাগানো থাকলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করেন। পালকোন্ডার সার্কেল ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, 'আমরা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। বিশেষ করে বিপজ্জনক পয়েন্টগুলোতে ব্যারিকেড দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে যাতে কেউ জলের খুব কাছে না যেতে পারে।'
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
মৃত তিন কিশোরীই ছিল মেধাবী এবং এলাকার অত্যন্ত প্রিয়। তাদের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আরারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'ওরা খুব হাসিখুশি ছিল। সামান্য একটা ছবি তুলতে গিয়ে যে এমন বিপর্যয় ঘটবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।'
মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সরকারি পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের সময় আনন্দ করার পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং জনসাধারণের সচেতনতাই পারে ভবিষ্যতে এমন 'সেলফি মৃত্যু' রোধ করতে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গাইড বা নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন এবং পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক জীবনদায়ী জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
নিরাপত্তা টিপস:
১. জলপ্রপাত বা জলাশয়ের কিনারে শ্যাওলা ধরা পিচ্ছিল পাথরের ওপর দাঁড়াবেন না।
২. সেলফি তোলার সময় আশেপাশের ভূপ্রকৃতি এবং গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
৩. প্রশাসনের দেওয়া সতর্কবার্তা বা নিষেধজ্ঞা মেনে চলুন।
৪. সাঁতার না জানলে বা জলের স্রোত বেশি থাকলে গভীর জলে নামা থেকে বিরত থাকুন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)