Anil Ambani’s Counsel: প্রসঙ্গত, অনিল আম্বানির মালিকানাধীন সংস্থা রিলায়েন্স পাওয়ারকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে আর ইতিমধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে এই মামলায় অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছে।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনিল আম্বানির আইনজীবী এসবিআইয়ের পদক্ষেপের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ শিল্পপতি অনিল আম্বানির (Anil Ambani) বিরুদ্ধে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এই উদ্বেগ মূলত ব্যাঙ্কের কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে। এই আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঋণখেলাপি (Loan Fraud Case) সংক্রান্ত একটি মামলা।
আইনজীবীর মতে, এসবিআই তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে যখন তা জনসাধারণের অর্থ নিয়ে কাজ করে, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। কিন্তু এই মামলায়, ব্যাঙ্কের কার্যকলাপ সেই মানদণ্ড পূরণ করছে না। আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন যে, এসবিআই কি নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রথা মেনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে, নাকি কোনো অদৃশ্য চাপ বা প্রভাবের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
দ্বিতীয়ত, আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসবিআই-এর আচরণে ন্যায়ের অভাব রয়েছে। গণতান্ত্রিক এবং আইন-ভিত্তিক সমাজে, প্রত্যেক ব্যক্তির সমান সুযোগ এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। আইনজীবী অভিযোগ করেছেন যে, অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা অন্যান্য ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নেওয়া ব্যবস্থার তুলনায় অস্বাভাবিক এবং পক্ষপাতদুষ্ট মনে হচ্ছে। এই পদক্ষেপ কি আম্বানির মতো একজন পরিচিত ব্যক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নেওয়া হয়েছে?
এই আইনি পদক্ষেপের ফলে সমাজে একটি ভুল বার্তা যেতে পারে। যদি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় না রাখে, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবী বলেন, এসবিআই-এর এই পদক্ষেপ ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কারণ, যখন কোনো গ্রাহক ঋণ নেন, তখন তিনি ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আশ্বাস পান। কিন্তু এক্ষেত্রে, সেই প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অনিল আম্বানির মালিকানাধীন সংস্থা রিলায়েন্স পাওয়ারকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে আর ইতিমধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে এই মামলায় অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই মামলায় ইডি প্রথম গ্রেফতার করেছে এক শিল্পপতিকে। সংবাদসূত্র অনুসারে বিসওয়াল ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পার্থসারথী বিসওয়ালকে ২০০২ সালের PMLA-র অধীনে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে যিনি এই ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভুবনেশ্বর ও কলকাতায় বিটিপিএলের অফিস চত্বরে তল্লাশি চালানোর একদিন পরেই এই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করে ইডি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)