)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীপাবলিতে ভোপালের আনন্দ বদলে গেল আর্তনাদে। দীপাবলিতে শব্দবাজি নিষিদ্ধ থাকলেও সে বারণ কেউ মানেনি। সঙ্গে দেদার বিকিয়েছে এবার বার্বাইড গান। ৫-১৫ সব বাচ্চার আনন্দের উত্স ছিল কার্বাইড গান। আর এই ক্যালসিয়াম কার্বাইড গানের আঘাতে ১৫০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। বেশ কয়েকজন রোগীর চোখের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। কারও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে। কারও আবার মুখ পুড়ে গিয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। দীপাবলিতে রমরমিয়ে এই খেলনা বন্দুক বিক্রি হলেও ১৮ অক্টোবর ‘কার্বাইড গান’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার।
ভোপালে দীপাবলির আনন্দ শিশুদের জীবনে দুঃখের স্মৃতিতে পরিণত হল। বিপজ্জনক ক্যালসিয়াম কার্বাইড বন্দুকের ব্যবহারের ফলে ১২৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৬০ বেশি। এদের বেশিরভাগই ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু।
বিপজ্জনক বন্দুকের শিকার
ক্যালসিয়াম কার্বাইড, প্লাস্টিকের পাইপ এবং একটি গ্যাস লাইটার দিয়ে তৈরি এই ইম্প্রোভাইসড বন্দুকটি এবার ভোপালে খুবই জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু কেউ এর পিছনের বিপদটি বুঝতে পারেনি। কার্বাইডটি জলের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে এটি অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে এবং একটি স্ফুলিঙ্গ বিস্ফোরণ ঘটায়। ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ‘কার্বাইড গান’ দেখতে খেলনার মতো হলেও বিস্ফোরণের সময় তারই আচরণ হয় বোমার মতো। এর আওয়াজ হার মানাবে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দকেও
ভোপাল, ইন্দোর, জব্বলপুর এবং গোয়ালিয়রের হাসপাতাল জুড়ে, চক্ষু চিকিৎসার ওয়ার্ডগুলিতে এই বন্দুকের আঘাতে আহত অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে। শুধুমাত্র ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালেই ৭২ ঘণ্টায় ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। ডাক্তাররা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অভিভাবকদের সতর্ক করছেন৷ বলেছেন,‘এটি কোনও খেলনা নয়, বরং একটি ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক।’ হামিদিয়া হাসপাতালের সিএমএইচও মনীশ শর্মা বলেন, ‘এই যন্ত্রটি চোখের সরাসরি ক্ষতি করে। বিস্ফোরণের ফলে ধাতব টুকরো এবং কার্বাইডের বাষ্প নির্গত হয় যা রেটিনা পুড়িয়ে দেয়। আমরা বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে চিকিৎসা করছি যেখানে শিশুদের চোখের পিউপিল ফেটে যায়, যার ফলে স্থায়ী অন্ধত্ব হয়।’
হাসপাতালগুলোয় নিষ্পাপ মুখের ভিড়
হামিদিয়া হাসপাতাল, জেপি হাসপাতাল, সেবা সদন এবং এইমস আহত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। দীপাবলির পরের দিন, ভোপালে ১৫০ টিরও বেশি এই ধরণের ঘটনা ঘটে, যাদের মধ্যে অনেককেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কিছু শিশুর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে ২০-৩০ শতাংশ শিশুর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে, যাদের কারও কারও কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়েছে। আহত শিশুদের পরিবারগুলি পূর্ব সতর্কীকরণ সত্ত্বেও কার্বাইড বন্দুক বিক্রি রোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য প্রশাসনকে দোষারোপ করেছে।
প্রশাসনের ব্যর্থতা নাকি অবহেলা?
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ১৮ অক্টোবর কার্বাইড বন্দুক বিক্রি বন্ধ করার জন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ জারি করেছিলেন। তবে, বাজারে এই বন্দুকগুলি অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)