Bihar Election Result 2025: 'টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়...' এবারেও রাহুল-তেজস্বীকে জমি ধরিয়ে দিয়ে শিক্ষা দিলেন ৭৪র চাচা নীতিশ...
Bihar Election Result NDA Leading: ভোটগণনা অনুসারে, নীতীশ কুমারের জেডি(ইউ) ১০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৫০-র বেশি আসনে এগিয়ে আছে। এই ট্রেন্ড চলতে থাকলে এনডিএ আবার বিহারের ক্ষমতায় থাকছে। আর এবার ক্ষমতায় আসলে, প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার (anti-incumbency) সঙ্গে লড়াই করা নীতীশের জেডি(ইউ)-র জন্য এটি একটি অত্যন্ত বড় প্রত্যাবর্তন হবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভোট গণনার (Bihar Polls Counting) আগের দিন বৃহস্পতিবার বিহার জুড়ে দলের প্রধান নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) নিয়ে পোস্টার ও ব্যানার ছেয়ে যায়, যার মূল বার্তা ছিল 'টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়' (Tiger Abhi Zinda Hai) (বাঘ এখনও বেঁচে আছে)। অনেকে তাঁকে বাতিল করে দিলেও, 'নীতিশ-বুড়ো হয়ে গিয়েছে,ওঁর দ্বারা আর হবে না'- এই কথা বারবার ঘুরেফিরে আসলেও, বিহারের 'সুশাসন বাবু' ৭৪ বছর বয়সে দেখিয়ে দিলেন যে তাঁর মধ্যে এখনও জেতার ক্ষিদে ও ক্ষমতা দুই-ই আছে। তাঁর স্বাস্থ্য ঘিরে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বুড়ো হারে ভেলকি দেখিয়ে নীতীশ কুমার বুঝিয়ে দিলেন, টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়।
TRENDING NOW
রাজনীতির 'হাওয়া মোরগ' নীতিশ কুমার:
১. রাজনীতিতে কোনও স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই। যদি কেউ এই ধারণাটি যিনি বারবার প্রমাণ করে থাকেন, তিনি নীতিশ কুমার। অটল বিহারী বাজপেয়ীর জমানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন নীতীশ।
২. রাজনীতিবিদ নীতীশ কুমার জনতা দল (ইউনাইটেড) (JDU)-র প্রধান। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন ২০১৫ সাল থেকে। তিনি ন'বার জিতেছেন আর আগে। এবার জিতলে ১০ নম্বর বার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন তিনি।
৩. ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি রয়েছে নীতীশ কুমারের। বিহার স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডে কয়েক মাসের জন্য চাকরিও করেছিলেন।
৪. ১৯৮৯ সালে জনতা দল থেকেই রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু নীতীশ কুমারের। ১৯৯৪ সাল অবধি জনতা দলে ছিলেন তিনি। এরপরে ১৯৯৪ সালে জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে সমতা পার্টি তৈরি করেন।
৫. ১৯৯৬ সালে লোকসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন। ওই বছর থেকেই এনডিএ জোটে ছিলেন নীতীশ। ২০০৩ সালে সমতা পার্টি-সহ একাধিক দল মিশে জনতা দল(ইউনাইটেড) গঠন করে। ২০১৩ সালে তিনি এনডিএ জোট ভেঙে বেরিয়ে আসেন। তৈরি করেন মহাগঠবন্ধন।
৬. ২০১৭ সালে আরজেডির সঙ্গে বিরোধের কারণে সেই জোট ভেঙে আবার এনডিএ-তেই ফিরে আসেন নীতীশ কুমার। ২০২২ সালের অগস্ট মাসে ফের এনডিএ ছেড়ে দেন নীতীশ কুমার।
৭. ফের আরজেডি, কংগ্রেস সহ ১৯টি দল নিয়ে মহাগঠবন্ধন তৈরি করেন। কিন্তু দেড় বছর কাটতে না কাটতেই, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ফের এনডিএ-তেই যোগ দেন নীতীশ কুমার।
৮. এর মাঝে তিনি ২৬টি বিরোধী দলকে নিয়ে ইন্ডিয়া জোটও তৈরি করেছিলেন, কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই জোট ভেঙে বেরিয়ে আসেন তিনি।
বিহারে পাল্টু কুমার:
বিহারে পাল্টু কুমার নামে পরিচিত নীতীশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ধরে রাখার জন্য তিনি কখনও এনডিএ, কখনও গঠবন্ধন জোটে নাম লিখিয়েছেন। শেষবার শিবির বদলের পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর কখনও এই ভুল করবেন না।
ভোটগণনা অনুসারে, নীতীশ কুমারের জেডি(ইউ) ১০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৫০-র বেশি আসনে এগিয়ে আছে। এই ট্রেন্ড চলতে থাকলে এনডিএ আবার বিহারের ক্ষমতায় থাকছে। আর এবার ক্ষমতায় আসলে, প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার (anti-incumbency) সঙ্গে লড়াই করা নীতীশের জেডি(ইউ)-র জন্য এটি একটি অত্যন্ত বড় প্রত্যাবর্তন হবে। সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, জেডি(ইউ) তার ২০২০ সালের আসন সংখ্যা থেকে প্রায় ৩০টি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও, এটি তার ৮৮% আসন ধরে রেখেছে।
এনডিএ-র মধ্যের ছোট লড়াই:
এনডিএ এবং মহাগঠবন্ধনের মধ্যেকার বড় বিহার যুদ্ধের একটি আকর্ষণীয় উপ-প্লট হল এনডিএ-র মধ্যে 'বড় ভাই' হওয়ার জন্য বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর লড়াই। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপি নীতীশের দলের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল, যা তারা গত ২০ বছরে পারেনি। ২০২০ সালের নির্বাচনে, জেডি(ইউ) ১১৫টি আসনে এবং বিজেপি ১১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। জেডি(ইউ)-এর আসন সংখ্যা ২০১৫ সালের ৭১ থেকে কমে মাত্র ৪৩-এ নেমে আসে। বিজেপি ৭৪টি আসন জিতেছিল। তবে, এবার মনে হচ্ছে জেডি(ইউ) দেখিয়েছে যে তারা মোটেই দুর্বল নয়, যদিও বিজেপি সমান আসন ভাগাভাগির জন্য আলোচনা করেছিল। চূড়ান্ত ফলাফল দৃঢ়ভাবে ঠিক করবে যে বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর মধ্যে কে 'বড় ভাই' হবে।
নীতীশ কুমারের সম্মোহনী ক্ষমতা:
১. এই নির্বাচন বিহারের এক যুগের সমাপ্তি ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছিল, কারণ নীতীশ কুমারের জন্য সম্ভবত শেষ নির্বাচন ছিল এটা। প্রায় ১৯ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলে এটি হবে তাঁর রেকর্ড ১০ম মেয়াদ।
২. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জাতিগত সমীকরণ এবং মহিলা ভোটারদের মধ্যে নীতীশের আকর্ষণ জেডি(ইউ)-এর পক্ষে কাজ করেছে। এটি নীতীশ কুমারের ভাবমূর্তি সব সম্প্রদায়ের কাছেই ভরসাযোগ্য প্রমাণ করে।
৩. যখন তিনি আরজেডি-র কাছ থেকে বিহারকে উদ্ধার করেছিলেন, তখন বিহারে চলছিল ভয়াবহ অবস্থা। 'জঙ্গল রাজ' তকমায় পরিচিত ছিল বিহার। তবে, উন্নয়ন এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির উপর মনোযোগ দিয়ে কুমার 'সুশাসন বাবু' উপাধি অর্জন করেন। তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ছাড়াও এটিই নীতীশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসাবে রয়ে গেছে।
৪. ফলাফল দেখিয়েছে যে মহিলারা নীতীশের সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসাবে রয়েছেন। এবার নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় ১০% বেশি ছিল - ৭৪.০৩% বনাম ৬৪.১%। তাঁর সাম্প্রতিকতম উদ্যোগ - মহিলা সুবিধাভোগীদের প্রত্যেককে ১০,০০০ টাকা করে স্থানান্তরিত করা - এই প্রধান ভোটব্যাংকের উপর তাঁর দৃঢ় দখলকে আরও মজবুত করেছে বলে মনে হয়।
তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, বিহারে এবার হিন্দু ভোটেরও তীব্র মেরুকরণ ঘটেছে। তার ফলে লালু প্রসাদের যাদব ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামিয়ে বিজেপি প্রচুর যাদব ভোটও পেয়েছে। সেই সঙ্গে তফসিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং অতি পিছড়ারাও এনডিএ-কে ভোট দিয়েছে। সেই সব সমষ্টিগত কারণেই বিহারে স্যুইপ করল এনডিএ (NDA)।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
Nabanita Sarkar
সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...
...Read More
LIVE