)
অয়ন শর্মা: রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে সিরাপ খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ২ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, যে ধরনের কাফ সিরাপ খেয়ে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে তার মধ্যে ডাই ইথিলিন গ্লাইকোল (DEG) কিংবা ইথিলিন গ্লাইকোল(EG) উপস্থিতি রয়েছে। যেটা কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
শুক্রবার ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেসের (ডিজিএইচএস)-এর তরফে জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়া যাবে না। ৫ বছরের কম বা তার বেশি বয়সি শিশুদের এই ধরনের ওষুধ খাওয়ানো যাবে। তবে তা চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েই করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফ থেকে ছটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল কাফ সিরাপের। যার মধ্যে ডাই ইথিলিন গ্লাইকল এবং ইথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতি রয়েছে। পুনে Niv, আই সি এম আর, কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল,আইএমএস আলাদাভাবে কাফ সিরাপকাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছে।
কিন্তু এই DEG ও EG আসলে কী?
DEG ও EG হল দুই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যেগুলি সাধারণত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এরা দুটিই অ্যালকোহল জাতীয় যৌগ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে যদি এগুলি ভুলবশত খাওয়া হয়। পূর্ণ নাম: Diethylene Glycol রাসায়নিক সংকেত: C₄H₁₀O₃। ব্যবহার: হিমরোধী তরল (antifreeze), ইন্ডাস্ট্রিয়াল দ্রাবক (solvent), প্লাস্টিক ও রজন (resin) তৈরিতে কিছু প্রসাধনী ও টেক্সটাইল প্রোডাক্টে। এই রাসায়নিক ভুলভাবে ওষুধ বা খাদ্যে মিশে গেলে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। অতীতে কিছু দেশে DEG-যুক্ত কাশির সিরাপে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, পূর্ণ নাম: Ethylene Glycol, রাসায়নিক সংকেত: C₂H₆O₂। ব্যবহার: গাড়ির হিমরোধী তরল (antifreeze), কুল্যান্ট (coolant)। প্লাস্টিক ও ফাইবার তৈরি করতে ব্যবহার হয়। তবে মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় ভুলবশত শিশুরা খেয়ে ফেলতে পারে। এরপরই শরীরে বিষক্রিয়া ঘটায়। কিডনি ফেলইউর ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
তবে শুধু কাফ সিরাপ নয়, সর্দিকাশির ওষুধ ২ বছরের নীচে ব্যবহার না করাই উচিত বলেছেন ডিজিএইচএস। কারণ, ৫ বছরের নীচে এই ধরনের অ্যান্টিটাসিভ ও অ্যান্টিঅ্যালার্জিক কম্বিনেশনের ওষুধ রেকমেন্ডেড নয়। তার বেশি বয়স হলেও প্রেসক্রিপশনে সাবধানে সর্দিকাশির ওষুধ লিখতে বলা হয়েছে চিকিৎসকদের। কারণ, ঠান্ডা লাগার উপসর্গগুলো কয়েকদিনের মধ্যে ওষুধ ছাড়াই কমে যায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)