)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্মার্টফোন কোম্পানিগুলিকে সম্প্রতি কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে নতুন ফোনে আগে থেকে লোড করে দিতে হবে সরকারের সঞ্চার সাথী অ্যাপ। এমনও খবর যেসব হ্যান্ডসেট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে তাদের ফোনে সফটঅয়্যার আপডেট করে ওই অ্যাপ ইনস্টল করে দিতে হবে। ওই অ্যাপ ডিলিট করাও যাবে না। এনিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। তাহলে কি সঞ্চার সাথীই হয়ে উঠতে চলেছে নয়া পেগাসাস! এমনও প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সরকারে কী যুক্তি? কেন্দ্রের যুক্তি হল, যে ভাবে সাইবার ফ্রড বা সাইবার জালিয়াতি শুরু হয়েছে তাতে সঞ্চার সাথী সেই জালিয়াতি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে পারে। পাশাপাশি হারানো বা চুরি যাওয়া ফোন খুঁজে পেতেও সাহায্য করবে নায় এই অ্যাপ।
এদিকে, নতুন এই অ্য়াপ নিয়ে কেন্দ্রের কোনও কথাই মানতে রাজি নয় কংগ্রেস। কেন্দ্রের এই অ্যাপ কি 'পেগাসাস প্লাস!', প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরম। কার্তি আরও বলেছেন, 'বিগ ব্রাদার আমাদের ফোনের দখল নিয়ে নেবেন। আমাদের জীবনেও অনেকটাও হস্তক্ষেপ হয়ে যাবে।'
বছর খানেক আগে ইজরায়েলের পেগাসাস স্পাই অয়্য়ার নিয়ে দেশে প্রবল শোরগোল উঠেছিল। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল ওই স্পাই অয়্যার দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের ফোনে নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্র। এবারও সেই প্রশ্ন উঠে গেল। সোশ্য়াল মিডিয়ায় এনিয়ে প্রশ্ন জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্র এবার সরকারিভাবে সাধারণ মানুষের উপরে নজরদারি চালাতে চলেছে।
সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেছেন, মোবাইল ফোনে সঞ্চাসাথী অ্যাপ ইনস্টল করে রাখার অর্থ কেন্দ্র সরকার এবার সবার উপরে নজরদারি চালাতে চলেছে। অন্যদিকে, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বলেছেন, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের উপরে নজরদারি চলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাহসিন পুনাওয়ালা এই নির্দেশকে গোপনীয়তা ও স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি টুইটারে লিখেছেন, "নিরাপত্তার অজুহাতে এই অ্যাপটিকে প্রতিটি নতুন ফোনে আগে থেকে ইনস্টল করতে বাধ্য করা এবং আমাদের এটি আনইনস্টল করার অনুমতি না দেওয়া—এর মাধ্যমে সরকার সম্ভাব্যভাবে আমাদের কল, টেক্সট এবং অবস্থানের ওপর নজরদারির ক্ষমতা পাবে। এটা হলো সবচেয়ে জঘন্য ধরনের নজরদারি।"
বিজেপি সাংসদ শশাঙ্ক মণি ত্রিপাঠী এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে গোপনীয়তার কোনো ঝুঁকি নেই এবং সমস্ত ডেটা ডিজিটালভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
ত্রিপাঠী এএনআইকে বলেছেন: "আমি আইআইটি থেকে এসেছি, তাই আমি সাইবার আক্রমণের ধরনগুলি বুঝি... আমাদের ডেটা বাইরে যাবে না, এবং নাগরিক সুরক্ষার জন্য যা যা নিশ্চিত করা দরকার, তার প্রতিটি দিক ডিজিটালি সুরক্ষিত রাখা হবে।"
ত্রিপাঠী এএনআইকে বলেছেন: "আমি আইআইটি থেকে এসেছি, তাই আমি সাইবার আক্রমণের ধরনগুলি বুঝি... আমাদের ডেটা বাইরে যাবে না, এবং নাগরিক সুরক্ষার জন্য যা যা নিশ্চিত করা দরকার, তার প্রতিটি দিক ডিজিটালি সুরক্ষিত রাখা হবে।"
এদিকে, চারদিক থেকে প্রবল বিরোধিতার চাপে পড়ে এখন এনিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি বলেন, সঞ্চার সাথী অ্যাপ বাধ্যতামূলক নয় এবং ব্যবহারকারীরা সহজেই এটি মুছে ফেলতে পারবেন। স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশিকা গোপনীয়তার উদ্বেগ তৈরি করার একদিন পরেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার এই মন্তব্যটি এলো।
অ্যাপটি সম্পর্কে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রশ্নের জবাবে সিন্ধিয়া বলেন: "যদি আপনি সঞ্চার সাথী না চান, তবে আপনি এটি মুছে ফেলতে পারেন। এটি ঐচ্ছিক (Optional)।"
তিনি আরও বলেন, "প্রত্যেকের কাছে এই অ্যাপটি পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। এটি তাদের ডিভাইসে রাখা বা না রাখা, সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করে।"
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)