)
রাজীব চক্রবর্তী: এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত উত্তরপূর্ব ভারতের অনেক রাজ্য। অসমে এনআরসি করার ফলে সেখানে কয়েক লাখ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। কথা উঠেছিল ওইসব মানুষদের আটকে রাখা হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এবার সব কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল ও রাজ্যগুলিতে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ দিল কেন্দ্র। ওইসব ক্যাম্পে আটকে রাখা হবে অবৈধভাবে ভারতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন(SIR) এর পর এবার নতুন এক পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। বছর ফুরোলেই বাংলায় নির্বাচন। ফলে এনিয়ে ফের একদফা আতঙ্ক তৈরি হতে চলেছে রাজ্যে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একে গেজেট নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ও রাজ্যগুলিকে ডিটেনশন ক্য়াম্প তৈরি করতে হবে। সেখানেই আটকে রাখা হবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধভাবে থাকছেন এমন মানুষজনকে। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে চলে আসা মানুষদের ক্ষেত্রে ছাড়া থাকবে। অর্থাত্ সেখান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানরা ওই সুয়োগ পাবেন।

নোটিফিকেশনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে যারা ভারতে ঢুকেছেন এবং বৈধ নথি ছাড়াই এসেছেন, কিংবা বৈধ নথি নিয়ে প্রবেশ করলেও যার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট ও ভিসা আইন পুরোপুরি কার্যকর হবে না। তবে যারা ছাড়ের আওতায় নেই, তাঁদের কঠোর নিয়ম মানতে হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির তৈরি ডিটেনশন সেন্টারে তাঁদের আটক রাখা হবে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার বলেন, ভারতের সংবিধান বলে ভারত একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সেখানে কোনও ধর্মের অধিক গুরুত্ব নেই। সেখানে এই ডিটেনশন ক্যাম্পের কথা বলতে গিয়ে ওরা যখন বলছে 'অবৈধভাবে ভারতে রয়েছে যারা', সেখানেই বলে দেওয়া হচ্ছে ধর্মীয় কারণ দেখে ঠিক হবে কারা ডিটেনশন ক্যাম্প যাবেন। ভারতের কোন আইন রয়েছে যেখানে ধর্মীয় কারণে শাস্তি হয়? নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ একের পর সংবিধান বিরোধী কাজ করেছে যাচ্ছেন। তারা এমন এক ভারত করতে চাইছেন যেখানে মানুষের অধিকার থাকবে না। তবে এনিয়ে অনেক মামলা মোকদ্দমা হবে। দেখবেন, পিছু হঠবে বিজেপি।
অন্য়দিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্র যে এই মনোভাব নিয়ে চলছে তা আমরা বহুদিন ধরেই বলছিলাম। ডিটেনশন ক্যাম্পের আগে ডি ভোটার করে দাও, এমনভাব কাগজপত্র চাও যে যে গরিব-প্রান্তিক মানুষের পক্ষে সেই কাগজ দেওয়া সম্ভব নয়। এটা গোটা দেশে চালু করা হলেও বিপদ মূলত বাংলাভাষী মানুষের। কারণ বিহার বা উত্তরপ্রদেশ তো মাঝামাঝি ভাগ হয়ে যায়নি! মাঝামাঝি ভাগ হয়েছে আর বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বাংলায়। দেশভাগের সময়ে বাংলা হয়েছে বিপন্ন। এখন বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ দিল্লি সরকার দিচ্ছে। এটা আসলে গরিব মানুষের উপরে আক্রমণ। আর নামটা যদি মুসলমান নাম হয় তাহলে সোনায় সোহাগা, দিল্লি অত্যান্ত খুশি হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)