)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত ২২ এপ্রিল, জঙ্গিদের হত্যালীলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে একজন বাদে সকলেই সেদিন ছিলেন পর্যটক। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার (Pahalgam Terror Attack) জবাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে পেয়েছে পাকিস্তান। দেশের সশস্ত্রবাহিনী পাকিস্তানে দুরন্ত প্রত্যাঘাত করেছিল। চলেছিল সামরিক অভিযান 'অপারেশন সিঁদুর' (Operation Sindoor)। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একের পর এক ৯ জঙ্গিঘাঁটি ধূলিসাৎ করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। আর 'সিদুঁর' মহাযোদ্ধা ছিল অত্যাধুনিক বিশ্বমানের ফরাসি যুদ্ধবিমান রাফাল (Rafale)। সেখান থেকে নিক্ষেপ করা স্ক্যাল্প মিসাইল এবং হ্য়ামার বোমায় ধ্বংসের নিখুঁত ঠিকানা লেখা ছিল।
এবার রাফাল নিয়ে এল বিরাট আপডেট। ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশন কোম্পানি জুটি বাঁধল টাটার সঙ্গে। এই দুই সংস্থার যুগলবন্দিতে এবার হায়দরাবাদে তৈরি হবে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র। যেখানে দাসো-টাটা মিলে ভারত এবং অন্যান্য বিশ্ব বাজারের জন্য রাফালের কিছু অংশ তৈরি করবে। প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'দাসো এভিয়েশন এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডস রাফাল যুদ্ধবিমানের ফিউজলেজ (বিমানের প্রধান অংশ) তৈরির জন্য চারটি উৎপাদন স্থানান্তর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশের মহাকাশ উৎপাদন ক্ষমতা জোরদার এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে বজায় রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোতেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হবে। হাই-প্রিসিশন উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এই অংশীদারিত্বে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস রাফালের মূল কাঠামোগত অংশ তৈরির জন্য হায়দরাবাদে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিমানের পিছনের ফিউজলেজের পাশের শেল, সম্পূর্ণ পিছনের অংশ, সেন্ট্রাল ফিউজলেজ এবং সামনের অংশ।'
রাফালে রয়েছে উন্নত ল্যান্ডিং গিয়ার, ফোল্ডিং উইং, শক্তিশালী আন্ডারকারেজ ও ক্যারিয়ারে নামার জন্য টেইলহুক সহ একাধিক বৈশিষ্ট্য। দুই ইঞ্জিনের মিডিয়াম মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট গোত্রের এই যুদ্ধবিমানে রয়েছে এমন সব অত্যাধুনিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি যা শত্রুপক্ষকে সহজেই কিস্তিমাত করতে পারে। নিশানায় যেমন নিখুঁত ও তেমনই দ্রুত একসঙ্গে একাধিক কাজ সেরে ফেলে। রাফালের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বাধিক প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার। ৫০ হাজার ফিট পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে। তবে স্বচ্ছন্দে উড়তে পারে মাটি থেকে ৩৭০০ কিলোমিটার উপরে। মাঝ আকাশেই জ্বালানি ভরতে পারে। যে কোনও আবহাওয়ায় একই রকম স্বচ্ছন্দ বোধ করে রাফাল। রাফালের দৈর্ঘ্য ১৫.৩০ মিটার। প্রতিটি ডানার দৈর্ঘ্য ১০.৯ মিটার। রাফাল সেখানে ৯৫০০ কেজি বাড়তি ওজন নিয়ে উড়তে সক্ষম। রাফালের রয়েছে 'ডেল্টা উইং',যা দ্রুতগতিতে উড়তে সাহায্য করে। এই যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন এতটাই শক্তিশালী যে, 'কমব্যাট মোড' থেকে স্থির অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগে মাত্র ৩ সেকেন্ড। রাফাল পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। শুধু তাই নয়, প্রায় সব রকমেরই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে সে উড়তে পারে এবং নিখুঁত নিশানায় হামলা করে নেক্সট জেন প্রযুক্তিতে তৈরি বলে আকাশ থেকে আকাশ মাইকা, দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশ মেটিওর, দূরপাল্লার স্কাল্প, যুদ্ধজাহাজ বিধ্বংসী এএম ৩৯ এক্সোসেট-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে রাফাল। স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র স্থির লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে। আর মাইকা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের অদৄশ্য বস্তুতেও হামলা চালানো যায়।
অতীতে ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ভারত-ফ্রান্সের ৬৩,০০০ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে বলেই মনে করা হয়! দেশের ইতিহাসে যা অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি বলেই খবর। ২৬টি রাফাল এম-এর মধ্যে ২২টি সিঙ্গল-সিটার এবং ৪টি টুইন-সিটার। রাফালগুলি মূলত দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তে মোতায়েন থাকবে। ভারত-ফ্রান্সের রাফাল চুক্তিতে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সাপোর্ট, সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং অফসেট বাধ্যবাধকতার আওতায় দেশের ভিতরে কিছু যন্ত্রাংশ নির্মাণের ব্যবস্থাও। রাফালের দু'টি স্কোয়াড্রন। ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রন (গোল্ডেন অ্যারো) আম্বালায় অবস্থিত। এই স্কোয়াড্রনটি রাফাল জেট দিয়ে সাজানো প্রথম এবং এটি পশ্চিম বিমান কমান্ডের অংশ। এরপর রয়েছে ১০১ নম্বর স্কোয়াড্রন (ফ্যালকন), এই স্কোয়াড্রন আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় অবস্থিত এবং এটি পূর্ব বিমান কমান্ডের অংশ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)