জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পুণের ২৩ বছরের IT ইঞ্জিনিয়ারের পর ফের আর এক তরুণের চরম সিদ্ধান্ত। ২৫ বছরের চার্টাড অ্যাকাউন্ট্যান্টের ভয়ংকর সিদ্ধান্ত। হিলিয়াম গ্যাস শুঁকে আত্মহত্যা করেন তিনি। সুইসাইড নোটের লেখা গা শিউড়ে ওঠার মত।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন:Jalpaiguri: ছেলেকে স্কুলে নামিয়ে চায়ের ভাঁড়ে তৃপ্তির চুমুক বাবার! তারপর দু'বার কেঁপে লুটিয়ে পড়লেন...
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির গুরুগাঁওয়ে একটি কোম্পানিতে চার্টাড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসাবে কর্মরত ছিলেন ২৫ বছরের ধীরজ কনসল। গত ২০-২৮ জুলাই পর্যন্ত তিনি গাজিয়াবাদের ইন্ডিয়ামার্টের কাছে আটদিনের জন্য একটি এয়ারবিএনবি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। তারপর গাজিয়াবাদেরই এক সাপ্লাইয়ারের থেকে ৩,৫০০ টাকা দিয়ে হিলিয়াম গ্যাস কেনেন। তারপর নিজের মুখে প্লাস্টিক বেঁধে হিলিয়াম গ্যাস চালিয়ে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ধীরজ ফেসুবকে এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, 'মৃত্যু আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। দয়া করে আমার মৃত্যুতে দুঃখ করবেন না। আত্মহত্যা অন্যায় নয় কারণ আমার উপর কোনও দায়িত্ব ছিল না।'

শুধু তাই নয়, ধীরজ স্পষ্ট করে লেখেন যে তার এই সিদ্ধান্তের জন্য যেন কাউকে দোষ দেওয়া না হয়। তিনি আরও বলেন, 'এটি আমার একার সিদ্ধান্ত। আমার জীবনে যাদের সঙ্গেই দেখা হয়েছে তার প্রত্যেকই খুব সহৃদয় ছিলেন। আমি পুলিস এবং সরকারকে অনুরোধ করছি যে দয়া করে আমার জন্য কাউকে বিরক্ত করবেন না।'
এমনকী পোস্টে তিনি পরিষ্কার করে বলেন যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে কোনও অনুশোচনা নেই। ধীরজ লেখেন, 'এটা আমার সিদ্ধান্ত, আমার জীবন, আমার নিয়ম।' তিনি এ-ও বলে যান যে, তাঁর জীবনটা পুরোটাই মিথ্যে এবং তিনি আর এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণই করতে চান না। নিজেকে তিনি প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করেন। এবং নিজেকে 'লুজ়ার' বলে মনে হয় তাঁর।
আরও পড়ুন:Watch Uluberia Shocker: বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয় বিধবা মহিলাকে! তারপর একঘণ্টা ধরে চলে নির্যাতন, সারা শরীরে...
এখানেই শেষ নয়, ধীরজ লিখে যান যে তিনি নিজের উপর কাজ করেছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই করে উঠতে পারেননি। তিনি বলেছেন যে বছরের পর বছর ধরে অনেকেই তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি 'স্টুপিড', 'ইডিয়ন' এবং 'ডাম্ব' ছিলেন, তাই নিজেকে শুধরাতে পারেননি। ঠাকুমা মারা যাওয়ার পর তিনি খুবই কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, এমনকী তারপরে তিনি বাড়ি থেকেই বেরোতেন না। যদিও সেটা অনেক বছর আগের কথা। কিন্তু এখন তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ যেন দুঃখ প্রকাশ না করেন।
শেষে ধীরজ লিখে যান যে যদি তাঁর ফেসবুক পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি সশরীরে সবকিছু হাতে লিখে রেখে গিয়েছেন। সুইসাইড নোটে তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছাও প্রকাশ করে যান। তিনি লেখেন, 'আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি কারও নাম উল্লেখ করব না কারণ আমি চাই না আপনারা কেউ সমস্যায় পড়ুন।' এবং তিনি প্রকাশ করেন যে, তাঁর সমস্ত টাকা যেন কোনও অনাথ আশ্রম বা বৃদ্ধাশ্রমে দান করে দেওয়া হোক। এমনকী তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গও যেন দান করা হোক।
জানা গিয়েছে, ধীরজের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ২০০২ সালে ধীরজের বাবা মারা যান। এবং তাঁর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাঁকে তাঁর ঠাকুমা-দাদু বড়ো করে তোলেন।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)