)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাইনোসর হ্যাচারি (The biggest dinosaur hatchery)? কোথায় বলুন তো? মাথার চুল ছিঁড়ছেন? না, অত ভাবতে হবে না। সেটা আপনার দেশেই, এ দেশেই। হ্যাঁ, ভারতই সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাইনোসর হ্যাচারি হিসেবে পরিচিত হল। মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ধার জেলার (Dhar district) পাদলিয়া গ্রামে (Padlya village) ঘটেছে এই আশ্চর্য আবিষ্কার। তবে সেই সুযোগ করে দিলেন নারায়ণশিলা। মানে, যাকে আমরা শালগ্রাম শিলা বলে থাকি। কেন, কী ভাবে ঘটল?
৭০ মিলিয়ন বছর আগে
মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার পাদলিয়া গ্রামের এই আশ্চর্য আবিষ্কার প্রাণীবিদ্যার জগৎকে বহু দূর বিস্তৃত করে দিল। এই আবিষ্কারই ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাইনোসর হ্যাচারি হিসেবে চিহ্নিত করল। জানা গিয়েছে, এই হ্যাচারিটি ৭০ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসরদের বংশবৃদ্ধির কেন্দ্র ছিল। মানে, ৭০০ লক্ষ বছর, বা ৭ কোটি বছর আগের কাহিনি
কুলদেবতাই ডাইনোসর ডিম
দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের আদিবাসীরা কিছু গোলাকার পাথরকে তাদের কুলদেবতা হিসেবে পূজা করে আসছিলেন। এই পাথরগুলিকে তাঁরা 'কুলদেবতা' বা 'গ্রামদেবতা' হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু সম্প্রতি একদল ভূতত্ত্ববিদ এবং প্যালিওন্টোলজিস্টদের গবেষণায় জানা গিয়েছে, এই পাথরগুলি আসলে টাইটানোসর (Titanosaur) প্রজাতির ডাইনোসরের ডিমের জীবাশ্ম। এই আবিষ্কারটি ভারতের ভূতাত্ত্বিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। জানা গেল, 'কুলদেবতা' হিসেবে পূজিত পাথর আসলে ৭০ মিলিয়ন বছরের পুরনো জীবাশ্মীভূত ডাইনোসর ডিম।
ডাইনোসরদের প্রিয় জায়গা
টাইটানোসরেরা ছিল ডাইনোসরদের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম প্রজাতি। ভারতের এই হ্যাচারিটি আবিষ্কারের ফলে তাদের প্রজনন, বাসস্থান এবং বিলুপ্তির কারণ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। গবেষকরা মনে করছেন, এই এলাকাটি ডাইনোসরদের জন্য এক নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র ছিল। এখানকার জলবায়ু এবং ভৌগোলিক পরিবেশ তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল ছিল।
ভারত ও ডাইনোসর
তবে, এই ধরনের ঘটনার ফলে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়-- এটা একটা লাভ। এই রকম আবিষ্কারের ফলে স্থানীয় মানুষজন এখন তাঁদের পূজিত পাথরগুলির ঐতিহাসিক এবং বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। সরকার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এই এলাকাটিকে সংরক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে এই অমূল্য জীবাশ্মগুলো সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি, এই সব আবিষ্কার প্রমাণ করে, ভারত ডাইনোসরদের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এই ধরনের আরও অনেক জীবাশ্ম হয়তো আমাদের আশেপাশে লুকিয়ে আছে, যা সঠিক গবেষণা এবং সংরক্ষণের অভাবে এখনও অপ্রকাশিত রয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে জানা যাবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)