)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এবার ইডি (The Enforcement Directorate) রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান (Reliance Group Chairman) অনিল আম্বানিকে (Anil Ambani) নোটিশ পাঠাল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ৫ অগাস্ট ডাকা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে লোন ফ্রড বা ঋণ জালিয়াতির (loan fraud-linked money laundering case) অভিযোগ। তবে রিলায়েন্স এক বিবৃতিতে আগেই জানিয়েছিল, রিলায়েন্স পাওয়ারের সঙ্গে রিলায়েন্স কমিউনিকেশন (RCOM) বা রিলায়েন্স হোম ফিনান্সের (RHFL) কোনও ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্ক নেই।
টানা খানাতল্লাশি
প্রসঙ্গত, মুম্বই ও দিল্লিতে অবস্থিত অনিল ধীরুভাই আম্বানি-নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানে টানা কয়েক দিন ধরে তল্লাশি চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইডি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ৩০০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় রিলায়েন্স গ্রুপ ও ইয়েস ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে।
ঋণ অনুমোদনে ঘুষ, ব্যাংকনীতি লঙ্ঘন?
গত ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৩৫টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে-- ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে রিলায়েন্স হোম ফিনান্স ও সংশ্লিষ্ট গ্রুপ কোম্পানিগুলিকে যে ঋণ দেওয়া হয়েছিল, তার আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রোমোটারদের বিভিন্ন কনসার্নে টাকা ঢুকেছে। অর্থাৎ, ঘুষ ও ঋণ অনুমোদনের মধ্যে এক যোগসূত্র আছে বলে সন্দেহ। আর সেটাই খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ঋণের অনুমোদনে ব্যাংকের নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটেছে। ঋণ বিশ্লেষণ ছাড়াই ব্যাক-ডেটেড (পুরনো তারিখে তৈরি করা) অনুমোদনপত্রের ভিত্তিতে ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। এই ঋণের টাকা বহু গ্রুপ কোম্পানিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রতারণা
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মানি লন্ডারিং কেসটি অন্তত দুটি সিবিআই এফআইআর, এবং ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংক, সেবি, ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (NFRA) ও ব্যাঙ্ক অফ বরোদা-র রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এসব রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি সুপরিকল্পিত স্কিমের মাধ্যমে পাবলিক মানি জালিয়াতি করে ব্যাংক, বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রতারিত করা হয়েছে।
অনুসন্ধান
কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আরকম (RCOM)-কে প্রতারক শ্রেণিভুক্ত করেছে এবং সিবিআই-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরও জানা গিয়েছে, কানাড়া ব্যাংক ও আরকম-এর মধ্যে ১০৫০ কোটির ঋণ প্রতারণা নিয়েও ইডি-র তদন্ত চলছে। এছাড়াও, অনিল আম্বানির অঘোষিত বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর বিদেশের সম্পত্তির বিষয়েও খোঁজ নিচ্ছে ইডি।
১৭০০০ কোটি টাকা
সূত্রের খবর, রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার-এর প্রায় ১৭০০০ কোটি টাকার এটিওয়ান (AT-1) বন্ডের আর্থিক অপব্যবহারের অভিযোগও এই তদন্তের আওতায় এসেছে। জানানো হয়েছে, যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তা মূলত ইয়েস ব্যাংক ও রিলায়েন্স হোম ফিনান্সকে ঘিরে এবং এ সবই ৮ বছরের পুরনো লেনদেন সংক্রান্ত!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)