Uttar Pradesh Shocker: সব ঠিক হয়ে যাবে! ফেরার মেয়েকে ঘরে ফিরিয়ে নলি কেটে খুন পরিবারের, প্রেমিককে মেরে ছোড়া হল অন্য বাড়ির ছাদে...

Uttar Pradesh Shocker: বাড়ির অমতে বিয়ে করার পর ১৯ বছরের ওই তরুণ গত শনিবারই ঘরে ফিরেছিলেন। পরদিনই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁর স্বামী ২৪ বছরের যুবক

সিকান্দর আবু জ়াফর | Updated By: Jan 12, 2026, 07:13 PM IST
Uttar Pradesh Shocker: সব ঠিক হয়ে যাবে! ফেরার মেয়েকে ঘরে ফিরিয়ে নলি কেটে খুন পরিবারের, প্রেমিককে মেরে ছোড়া হল অন্য বাড়ির ছাদে...

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাত্র এক মাস আগে বাড়ি পালিয়ে প্রয়াগরাজে গিয়ে বিয়ে করেছিল শিবাণী ও দীপক। কিন্তু পরিবারের হাত থেকে রক্ষা পেল না। তরুণীর পরিবার তাদের মেয়ে ও তার স্বামীকে গলা কেটে খুনে করে ফেলল। গোটা গ্রামের সামনে হাড়হিম ওই ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশের এটাওয়ায়।

Add Zee News as a Preferred Source

বাড়ির অমতে বিয়ে করার পর ১৯ বছরের ওই তরুণ গত শনিবারই ঘরে ফিরেছিলেন। পরদিনই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁর স্বামী ২৪ বছরের যুবক। দুজনের বাড়ি একই পাড়াতে। দুজনকে এক সঙ্গে পেয়ে মেয়ের পরিবার দুজনকেই বেধড়ক লাঠিপেটা করে। তার পর তারা লুটিয়ে পড়লে দুজনেরই গলার নলি কেটে দেওয়া হয়। 

খুন করার পর তরুণীর দেহ ছাদেই ফেলে রাখে তরুণীর পারিবার। অন্যদিকে, তরুণের দেহ ছুড়ে দেয় পাশের বাড়ির ছাদে। প্রতিবেশীরা পুলিসে খবর দেয়। পুলিস এসে দেখে তরুণ তখনও বেঁচে রয়েছে। ওই ছবি ভাইরালও হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিস ওই তরুণকে তুলে হাসপাতালের পথে রওনা হয়। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। তরুণ ও তরুণী দুজনই লোধি জাতের। পুলিস তরুণীর বাবাকে গ্রেফতার করেছে। 

পুলিস সূত্রে খবর, নিহত তরুণী ও তরুণ শিবাণী এবং দীপক জাইথরা থানা এলাকার গাড়িয়া সুহাগপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাদের দুই বাড়ির দূরত্ব ছিল মাত্র ১৫০ মিটার। তিন বছর আগে তাদের প্রেম শুরু। তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাদের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাই গত নভেম্বর মাসে মেয়েটিকে কনৌজের সাকরাওয়ায় তার কাকার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে দূরে সরিয়ে দিলেও তাদের ফোনে কথাবার্তা বলা বন্ধ হয়নি।

রেমিকা শিবাণঈ ও প্রেমিক দীপক বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। গত ১১ নভেম্বর শিবাণী দীপককে দেখা করার জন্য ডাকে। এরপর দুজনে মিলে প্রয়াগরাজে পালিয়ে যায়। ওই দিনই তারা প্রয়াগরাজের একটি আর্য সমাজ মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা সেখানেই একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। দীপক সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন।

এদিকে, দুই পরিবারই হন্যে হয়ে তাদের খুঁজছিল। গত ১৫ ডিসেম্বর কনৌজের সাকরাওয়া থানায় দুই পরিবারই উপস্থিত হয়। সেখানে তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চুক্তি হয় যে—মেয়েটিকে তার পরিবার নিজেদের কাছে ফেরত নিয়ে যাবে এবং এই বিষয়ে তারা কোনো আইনি ব্যবস্থা করবে না।

পরিবারের আশ্বাস অনুযায়ী গত শনিবার শিবানী প্রয়াগরাজ থেকে নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। রোববার রাত ৮ টার দিকে দীপকও সেই গ্রামে পৌঁছান এবং সরাসরি শিবানীর বাড়িতে চলে যান। তারা যখন বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন,তখন শিবানীর পরিবারের লোকজন তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। প্রচণ্ড রেগে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা পুরো গ্রামের সামনেই লাঠিসোঁটা দিয়ে দুজনকে খুব নিষ্ঠুরভাবে মারধর করতে শুরু করে। তারা দুজনে চিৎকার করলেও গ্রামের কেউ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

আরও পড়ুন-সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ইরানে নিহত ৫৩৮, দেশজুড়ে চলা অশান্তিতে ১২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি ভারতের...

আরও পড়ুন- বিক্ষোভের মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, আমেরিকার উস্কানির মুখে পাল্টা মুখ খুললেন খামেইনি

তরুণীর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে শিবানীর গলা কেটে হত্যা করে। এরপর তারা একইভাবে দীপকেরও গলা কেটে দেয়। হত্যার পর দীপকের মৃতদেহ পাশের বাড়ির ছাদে ফেলে দেওয়া হয়, আর শিবানীর দেহ তাদের নিজেদের বাড়ির ছাদেই পড়ে থাকে।

গ্রামবাসীরা ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে এসএসপি শ্যাম নারায়ণ সিং দ্রুত পুলিস বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু ততক্ষণে শিবানী মারা গেছে। অন্যদিকে, দীপকের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র (CHC) থেকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

শিবানীর বাবা অশোক কুমার পেশায় একজন প্রাইভেট ড্রাইভার। শিবানীর মা বিট্টো দেবী দাবি করেছেন, "আমার স্বামী কাউকে খুন করেননি।" শিবানীরা চার বোন—লক্ষ্মী (৩০), কাঞ্চন (২৭), শিল্পী (২৩), এবং কাজল (১৬)। তার দুই ভাই আছে—বিকাশ (২৫) এবং আয়ুষ (১২)।

অন্যদিকে, প্রেমিক দীপক তার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। বাকীরা হল, আদেশ (২৫), উদয়পাল (১৮), ও সন্দেশ (১৬)। এছাড়া তার সুমন (২৮) ও সঙ্গীতা (১৯) নামে দুই বোন আছে।

নিহত তরুণের সম্পর্কে ভাই সংবাদমাধ্যমে জানান, পুরো গ্রামের সামনেই দুজনকে খুন করা হয়েছে। ওরা দুজনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল। পরে গ্রামে এই নিয়ে একটি আপস-মীমাংসাও হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুজনকে নৃশংসভাবে খুন করে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এই পুরো ঘটনাটি গ্রামবাসীর চোখের সামনেই ঘটেছে। দীপক খুব সহজ-সরল ছেলে ছিল। ও ওর বাবা রাধেশ্যামের সাথে চাষবাসের কাজ করত।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

About the Author
.