)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৪৮ ঘণ্টার পার। সারা দেশে কার্যকর হয়ে গিয়েছে জিএসটি-র নয়া কর কাঠামো। কিন্তু লাভটা কি হল? এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীকে কি আদৌ সাশ্রয় হবে? এবার সামনে এল বণিকসভার ফিকি-র নয়া সমীক্ষা রিপোর্ট।
রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে, জিএসটির নয়া হার কার্যকর হওয়ার পর মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রতিমাসে মাথাপিছু সাশ্রয় হবে মাত্র ৫৮ থেকে ৮৮ টাকা! জিএসটি নতুন হারে এখন বহু পণ্যই এখন খানিক সস্তা বটে। কিন্তু ওজনে সামান্য় হেরফের করে কোম্পানিগুলি যে দাম একই রাখার চেষ্টা করবে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। বস্তুত, অর্থ মন্ত্রকে চিঠি দিয়ে একাধিক বণিকসভা জানতে চেয়েছে, 'যদি কোনও পণ্যের ওজন বাড়িয়ে দাম একই রাখা হয়, সেটি কি জিএসটি সংস্কার নীতির পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হবে'?
গত সোমবার থেকে চালু হয়ে গিয়েছে জিএসটি নয়া কর কাঠামো। চার ধাপ নয়, এবার ২ ধাপে জিএসটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ফলে বহু পণ্যের দাম একধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। কিন্তু এখনও অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো দামেই কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে জিএসটির নতুন হারের সুফল জানতে 'থট আর্বিট্রেজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে'র সঙ্গে যৌথভাবে সমীক্ষা চালিয়েছে ফিকি।
রিপোর্ট বলছে, শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে নতুন জিএসটি। গ্রামীণ এলাকায় ৭৫.৫ শতাংশ নিত্য়প্রয়োজনীয় পণ্যই এখন হয় য় জিএসটি-মুক্ত নয়তো ৫ শতাংশ জিএসটির আওতায়। শহরে সেই হার ৬৬.২ শতাংশ। ফলে পরিবারগুলিতে মাথাপিছু ৫৮ থেকে ৮৮ টাকা প্রতিমাসে সাশ্রয় হবে। এই সামান্য সাশ্রয়কে কি 'উৎসব' বলা যায়? প্রশ্ন তুলছে জনতা।
সবথেকে বড় প্রশ্ন, জিএসটি কমানোর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম কি আদৌ কমবে? কারণ, অনেক সংস্থাই চাইছে 'প্রাইস ট্যাগ' বা 'এমআরপি' যেন না বদলাতে হয়। কারণ, মূলত দু'টি। জিএসটি কমে যাওয়ার জেরে বহু পণ্যের দামে টাকার সঙ্গে কিছু পয়সাও যুক্ত হয়েছে। যে বিস্কুটের দাম ছিল ৫ টাকা, সেটাই হয়েছে হয়তো ৪ টাকা ৪৫ পয়সা। ইউপিআই পেমেন্ট ছাড়া যা মেটানো সম্ভব নয়। আর দ্বিতীয় সমস্যা হল, পোশাক অথবা ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে 'ম্যাজিক প্রাইসিং, অর্থাৎ 'প্রিন্ট প্রাইস' ১৯৯ টাকা, ৪৯৯ টাকা ইত্যাদি রাখা, যাতে ক্রেতাদের কাছে প্রথম দর্শনেই আগ্রহ বেড়ে যায়। জিএসটি কমে যাওয়ার জন্য এইসব পণ্য আর ওই ম্যাজিক প্রাইসিং রাখতে পারছে না। সেই কারণেই তারা চাইছে খাদ্য অথবা নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্যেরও ওজন বা পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়ে আগের দাম বজায় রাখতে। এতে কি জিএসটি নীতির অমান্য করা হবে? একাধিক বণিকসভা চিঠি দিয়ে এই প্রশ্ন করেছে অর্থমন্ত্রককে।
এদিকে পণ্যের দাম কমানোর ক্ষেত্রে নজরদারি জন্য অবশ্য সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটি করেছে সরকার। শিল্পমহল চায় না সরকারের নীতি লঙ্ঘন করতে। কিন্তু তারা এই স্বাধীনতা পেতে চাইছে যাতে, তাদের পণ্যের ওজনের হেরফের ঘটিয়ে দাম একই রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)