)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নিহত টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে রাধিকার পরিবার তার স্বাধীনতা খর্ব করত এবং তার জীবনযাপের ধরন নিয়ে অভিযোগও করত। সেই বন্ধুর ক্ষোভ, কীভাবে "পুরুষরাই পুরুষদের রক্ষা করেছে"। রাধিকার বাবা, দীপক যাদবের বিরুদ্ধে মেয়েকে গুলি করে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে রাধিকার আয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকার জন্য তাকে উপহাস করা হত, আর সেই কারণেই তিনি এই কাজ করেছেন।
রাধিকার বন্ধু হিমাংশিকা সিং রাজপুত, যিনি নিজেও একজন টেনিস খেলোয়াড়, ইনস্টাগ্রামে দুটি ভিডিয়ো পোস্ট করে এই মামলায় নতুন মোড় এনেছে। তিনি দাবি করেছেন যে রাধিকার পরিবার তার জীবনের প্রতিটি দিক "নিয়ন্ত্রণ" করত। নতুন একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে মিস রাজপুত তার আগের ভিডিয়োর কমেন্টের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে পুরুষরা রাধিকার বাবার কাজকে সমর্থন করেছে।
কিছু কমেন্টে লেখা "বাবার প্রতি শ্রদ্ধা", "ভালো বাবা", "বাবা ঠিকই করেছে"। এমনকি কেউ কেউ মিস রাজপুতকে মিথ্যা বলার অভিযোগও করেছেন। এই ঘটনাটি সমাজে লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হিমাংশি লেখেন, গত সপ্তাহে আমি রাধিকা যাদব নিয়ে দুটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম, আর আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম—কমেন্ট সেকশন পুরোটাই পুরুষদের দ্বারা পুরুষদের পক্ষ নেওয়ায় ভরে গিয়েছিল। এটা মেনে নেওয়া যায় না। ন্যায়বিচার হতেই হবে। পুরুষদের বুঝতে হবে এই পৃথিবী শুধু তাদের একার নয় — এখানে নারীরাও আছেন, নারীরাও প্রতিবাদ করেন এবং নারীরা একে অপরের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
হিমাংশি আরও ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন:
"পুরুষ হোক বা বাবা-মা, ঘরে মেয়েদের ‘ছোট ছোট’ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া — কী পরবে, কোথায় যাবে, কেমন আচরণ করবে — এসব মোটেই ছোট বিষয় নয়। এটাই মূল সমস্যা। এখন সময় এসেছে পুরুষদের পুরুষদেরই শিক্ষাদান করার। সময় এসেছে শুধু মা নয়, বাবারাও যেন তাঁদের ছেলেদের শেখান কীভাবে নারীদের সম্মান করতে হয়। কেবল মেয়েদের ‘নিজেকে সুরক্ষিত রাখো’ বলেই চলবে না। ছেলেরা কবে শিখবে?"
হিমাংশিকা এর আগেও রাধিকার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। তাঁর দাবি, রাধিকা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলেও, তাঁর পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি। "ও ছোট পোশাক পরত, ছেলেদের সঙ্গে কথা বলত, নিজের মতো করে জীবন কাটাত — এটা ওদের সহ্য হত না। ওর স্বাধীনতা ওদের পছন্দ ছিল না।" যদিও রাধিকার পরিবার এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রাধিকার উপরে কোনও রকম নিষেধাজ্ঞা ছিল না বরং স্বাধীনভাবেই বিশ্বের নানা প্রান্তে টেনিস খেলতে যেতেন।
রাধিকার পরিবারের এক সদস্য বলেন, যদি ওর উপর কোনও বিধিনিষেধ থাকত, তাহলে ও বাড়ি ছেড়ে বেরোতে পারত না, কিংবা অন্যদের ট্রেনিং দিতে পারত না। তাই এইসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খুন হওয়ার আগে রাধিকা তাঁর কোচ অজয় যাদবকে জানিয়েছিলেন যে তিনি বাড়ি ছাড়তে এবং বিদেশে যেতে চান।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)