)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিজেপি বরাবরই বলে থাকে রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা ঢুকে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রায় বলে থাকেন, ঘূণ পোকার মতে আমাদের দেশটাকে খেয়ে ফেলছে অনুপ্রবেশকারীরা। রাজ্যে এসআইআর চলছে। ফলে রাজ্যে কতজন অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন তা অনেকটাই স্পষ্ট যাবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, বাংলায় কতজন অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন ও কতজন অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হয়েছে তার তথ্য দিতে নারাজ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত শাহ অনুপ্রবেশ নিয়ে সরাসরি দুষেছেন বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে। কিন্তু সেই অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে কেন নারাজ কেন্দ্র? এ বাংলা দৈনিকের খবর অনুযায়ী, সংসদে শীত অধিবেশনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দুটি লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন তৃণণূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল গত ১০ বছরে দেশে কতজন অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছেন? তার সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হোক। পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, গত ১০ বছরে কতজন অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তার বছর ও দেশভিত্তিক বিবরণ দেওয়া হোক। কেন্দ্র ওই দুই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেয়নি।
এদিকে প্রশ্ন উত্তর না পেয়ে রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লেখেন সুখেন্দু শেখর রায়। সেই চিঠির উত্তরে জানানো হয়, অধিবেশন শেষ হওয়ার পরে বিষয়টি নিয়ে জানানো হবে। কিন্তু রাজ্যসভার পোর্টাল থেকে জানা যায় ওই দুটি প্রশ্ন গ্রহণ করা হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাজ্যসভার আইন অনুযায়ী বিদেশি কোনও বন্ধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও গোপন বিষয় নিয়ে তথ্য চাওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, আজ কলকাতায় অমিত শাহ তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দেন, অনুপ্রবেশ বাংলার একটি বড় ইস্যু। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়া হবে। এমন ব্যবস্থা করা হবে যে মানুষ তো দূরের কথা পাখিও সীমান্ত পার করে প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারী রোখাই নয়, রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে ফেরত পাঠানো হবে।
অনুপ্রবেশ নিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, রাজ্য এমন একটা সরকার আছে যে অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের রাজ্যে ঠাঁই দিচ্ছে। অনুপ্রবেশকারী আটকানোর জন্য সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সিএএ-র বিরোধিতা করেছে এই রাজ্য । বিএসএফ এর ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করতে চাই, বাংলাদেশ ও রাজ্যের সীমানায় জমি দেয়নি কোন রাজ্য সরকার? কেন অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আপনার প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, উত্তর দেবেন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন পঞ্জাব,অসম, কাশ্মীরের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ হয় না? আপনার জন্য এই অনুপ্রবেশ হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভোট ব্যাংক বাঁচাতে এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করেননি। অনুপ্রবেশ বাংলার ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)