)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে। মোটে চার মাস হয়েছে বিয়ে করে। ভাড়া বাড়িতেই স্বপ্নের দুনিয়া গড়েছিলেন সচীন। আচমকাই যেন কুনজর লেগে গেল তাঁর সোনালি সংসারে। স্ত্রীকেই মেরে ফেললেন। গলা টিপে স্ত্রীকে খুন করে সচীন। তারপর কম্বলে মুড়ে রাখে দেহ। পরের দিন সকালে নিজেই থানায় আত্মসমর্পনও করে। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের কানপুরে।
ঘটনার সূত্রপাত:
সচীন জবানবন্দিতে বলেন, বেশ কিছু দিন আগে থেকে সচীনের তার স্ত্রী শ্বেতা সিংয়ের আচরণের উপর সন্দেহ হচ্ছিল। আরও অভিযোগ করে যে, সে যখন কাজের জন্য বাইরে থাকার সময় তার স্ত্রী মহারাজপুরে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাছে পাশে পিজিতে থাকা দুই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
বিছানায় দুই পুরুষের সঙ্গে:
সচীন পুলিসকে আরও জানায়, দুই দিন আগে সে তার স্ত্রীকে বলেছিল, সে গ্রামে যাচ্ছে এবং সেই রাতে আর ফিরবে না। কিন্তু শুক্রবার রাতে সে হঠাৎ বাড়ি ফিরে আসে। সে দাবি করে যে ফিরে এসে সে তার স্ত্রীকে দুইজন পুরুষের সঙ্গে বিছানায় শুয়ে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। সচীন বলে, এরপর সে তার মোবাইল ফোনে ভিডিয়ো রেকর্ড করা শুরু করে। তখনই তার স্ত্রী নাকি ওই দুইজনকে তাকে মারধর করতে উসকানি দেয়। পরে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে জড়িত সবাইকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিস স্টেশনে সচীন জানায় যে সে এই বিষয়টি তখন এগিয়ে নিতে চায় না এবং পরে মীমাংসা করতে চায়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সে দাবি করে যে বাড়ি ফিরে তার স্ত্রী তাকে চাপ দেয়, যেন সে ওই দুই ছেলেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করে। সে আরও বলে, স্ত্রী তাকে হুমকি দিতে থাকে। এবং জানায় যে সে রাজি না হলে তাকে ছেড়ে ওই দুইজনের সঙ্গে থাকতে চলে যাবে।
অপরাধের স্বীকারোক্তি:
সচীন আরও অভিযোগ করে যে এই ঝগড়ার সময় তার স্ত্রী তাকে বলে, সে যেন তাকে মেরে ফেলে। তারপরই প্রচণ্ড রাগের মাথায় সে তার স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করে। এরপর সে তার দেহ একটি কম্বলে মুড়ে ভাড়ার ঘরেই রেখে দেয়। পরের দিন সে কাছের থানায় গিয়ে নিজেই এই ঘটনার কথা স্বীকার করে।
পুলিস তাকে সঙ্গে নিয়ে সেই ঘরে যায়, যেখানে শ্বেতার দেহ কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযুক্তকে পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দেহের প্রাথমিক পরীক্ষা চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এদিকে, এই ঘটনা সামলানোর ক্ষেত্রে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, আগে অভিযুক্তকে ছেড়ে না দিলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)